রাজ্যে নারী ও শিশুদের উপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সমাজে সচেতনতার বার্তা দিতে চান সমাজসেবী নিমাই মন্ডল। দীর্ঘদিন ধরেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন।
নিমাই মন্ডলের বক্তব্য, একটি সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি নারী ও শিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যে কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধান ও প্রচলিত আইনের নির্দিষ্ট ধারায় বিচার নিশ্চিত করা হোক।
তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনওভাবেই জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনের সমান প্রয়োগ হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
নিমাই মন্ডলের দাবি, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি মানুষেরও এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলিকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পরিবেশ তৈরি হয়।
তিনি জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। একজন সাধারণ নাগরিক ও সমাজসেবী হিসেবেই নারী ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আরজি কর হাসপাতাল কিংবা বারুইপুর—যে কোনও ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত। আইনের চোখে সকলেই সমান এবং অপরাধের বিচারও সেই নীতিতেই হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শেষে নিমাই মন্ডল সকলের উদ্দেশে আহ্বান জানান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সমাজের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন সমাজই পারে অপরাধ প্রতিরোধ করতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে।
