Type Here to Get Search Results !

শিব পুজো উপলক্ষে বাউল গানে বাধা, অভিযোগের তির তৃনমুল নেতার বিরুদ্ধে


শিব পূজো উপলক্ষে বাউল গানে বাধা দানের অভিযোগ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, মন্দিরের তালা ভাঙলো পুলিশ, বিক্ষোভ এলাকাবাসীর, আইসির হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ বিরোধীদের


মালদা;তনুজ জৈন;২০ফেব্রুয়ারী: শিবরাত্রি উপলক্ষে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাউল গানের আয়োজন করেন এলাকাবাসী। গ্রামের শিব মন্দিরের পাশেই রয়েছে বিদ্যালয়। অভিযোগ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যিনি আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি বাউল গানে বাধাদান করছেন।তার অঙ্গুলিহনেই পুলিশ এসে মন্দিরের তালা ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ। 


সমগ্র ঘটনা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে গ্রামবাসীরা। পরবর্তীতে আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই মুহূর্তে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার স্বাপেক্ষে শুরু হয়েছে বাউল গান। সমগ্র ঘটনা সামনে আসতেই তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। 


বিরোধীরা এক যোগে আক্রমণ করেছে তৃণমূলকে। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত হরদমনগর গ্রামের ঘটনা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওই গ্রামের মানুষেরা শিবরাত্রি উপলক্ষে বাউল গানের আয়োজন করেন। গ্রামের শিব মন্দিরের পাশেই রয়েছে হরদমনগর জুনিয়র হাই স্কুল। এতদিন ধরে বিদ্যালয়ের জায়গাতেই বাউল গান হতো। 


কিন্তু বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রামচন্দ্র দাস বিদ্যালয়ের জায়গাতে বাউল গান হতে দেবেন না। এই মর্মে তিনি আগেই প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানিয়ে ছিলেন। গ্রামবাসীদের দাবি তাই তারা মন্দিরের জায়গাতে বাউল গানের আয়োজন করেছে। কিন্তু তারপরও রামচন্দ্র দাস মন্দিরের সেই জায়গা দখল করে বাউল গান বন্ধ করতে চাইছে। রামচন্দ্র দাস আবার জেলা তৃণমূলের কমিটি সদস্য এবং এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ তিনি প্রভাব খাটিয়ে ভালুকা ফাঁড়ির পুলিশকে দিয়ে মন্দিরের তালা ভাঙিয়েছেন। তারপরেই রামচন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এলাকাবাসী। ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হরিশচন্দ্রপুর থানার আইসি দেওদূত গজমের। পরবর্তীতে তার হস্তক্ষেপেই নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে কোন তালা ভাঙ্গা হয়নি। নিজেরাই তালাটা খুলেছে। 

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।যদিও রামচন্দ্র দাসের দাবি তিনি বিদ্যালয়ের জায়গাতে কোন ভাবে বাউল গান করতে দেবেন না। তাকে গ্রামবাসীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না তাই তিনি প্রশাসনকে জানিয়ে ছিলেন। এই ঘটনা বিরোধীদের চক্রান্ত বলেও অভিযোগ তার। অপরদিকে চারিদিকে সন্ত্রাস তৈরি করতে চাইছে তৃণমূলকে কটাক্ষ বিজেপির। শাসকদলের পায়ের তলার মাটি নেই খোঁচা সিপিআইএমের। তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।


বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী শকুন্তলা দাস বলেন, আমরা আমাদের জায়গায় বাউল গান করছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন সেই বাউল গান বন্ধ করবে। তাই আমরা প্রতিবাদ করেছি।


বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী সাধন কুমার দাস বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের জায়গাতে বাউল গান করছি না। মন্দিরের জায়গাতেই করছি। তারপরেও উনি বন্ধ করতে চাইছেন। পুলিশ ডেকে তালা ভাঙ্গিয়েছেন। প্রশাসনের সকলের অনুমতি নিয়ে আমরা এখন বাউল গান শুরু করেছি।


বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী দুর্জয় দাস বলেন, প্রধান শিক্ষক বলপূর্বক আমাদের ধর্মীয় উৎসব বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। উনি আমাদের ধর্মীয় ভাবে আঘাত করছেন। প্রত্যেক বছর শিব পূজা উপলক্ষে আমাদের এই বাউল গান হয়।


হরদম নগর জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা জেলা তৃণমূল কমিটির সদস্য রামচন্দ্র দাস বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম বিদ্যালয়ের জায়গাতে বাউল গান হতে দেব না।আমি তার প্রতিবাদ করায় আমাকে বিদ্যালয়ের ভেতর ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাই পুলিশকে ডেকেছি পুলিশ নিজের কাজ করেছে। আমি তৃণমূল করি বলেই এই এলাকার অনেক কাজ করেছি। যারা বিক্ষোভ করছে তারা কংগ্রেস এবং সিপিআইএমের অলিখিত জোট।


উত্তর মালদা জেলা বিজেপির সাংগঠনিক  সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, তৃণমূল চারিদিকে এইভাবে সন্ত্রাস তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু ওদেরকে মাথায় রাখতে হবে গণতন্ত্রের মানুষ শেষ কথা বলে। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি এইসবের জবাব দেবে।


সিপিআইএম নেতা সহদেব চন্দ্র দাস বলেন, এই বাউল গান ওই গ্রামের মানুষ দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে আয়োজন করে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যিনি তৃণমূল নেতা তিনি বলপূর্বক বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। উনার জন্য এলাকায় একটা উত্তেজনায় ছড়িয়েছে। এসব কিছু প্রমাণ দিচ্ছে তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই তাই এইসব করছে।


গ্রামে শিব পূজো উপলক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বাউল গান করছে গ্রামবাসীরা। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে এলাকাবাসীর বিশ্বাস এবং আবেগ। তাই এই ধরনের ঘটনা সব সময় প্রশাসনের অত্যন্ত সতর্ক ভাবে বিবেচনা করা উচিত। এতে যে কোন সময় তৈরি হতে পারে উত্তেজনাময় পরিস্থিতি।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
```
```
```

Top Side