অরুণাভ দত্ত, বালুরঘাট:- সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের নাজিরপুর পঞ্চায়েতের কিসমত যশাহার এলাকায় রহস্যময় এক পুকুরকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছে এই পুকুরটি রহস্যময় বলে পরিচিত। সাধারণত গরমকালে পুকুরের জল কিছুটা কমলেও অর্ধেক অংশ কখনোই সম্পূর্ণ শুকোয়নি। তবে এবছর ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে।
প্রথমবারের মতো পুকুরের অর্ধেকের বেশি জল শুকিয়ে যাওয়ার পর ইটের তৈরি একটি প্রাচীন সিঁড়ির রাস্তা আবিষ্কৃত হয়েছে। পুকুরের তলদেশে এই সিঁড়ির অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি কোনো প্রাচীন স্থাপনার অংশ।
পুকুরপাড়েই রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ এবং অর্ধেক কাটা পাথরের কালী মূর্তি, যেখানে সারা বছর নিয়মিত পূজা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর আগে দুষ্কৃতীরা কালী মূর্তির অর্ধেক অংশ কেটে নিয়ে যায়। বর্তমানে মূর্তির অবশিষ্ট অংশই পূজিত হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পুকুরটি কোনো প্রাচীন জমিদার বাড়ির মন্দির সংলগ্ন জলাধার বা কুয়োর অংশ হতে পারে। অনেকেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছেন, পুকুরের মাঝখানে একটি বড় কুয়ো রয়েছে, যেখানে অতীতে মূল্যবান সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
এই রহস্যময় পুকুরকে ঘিরে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশ, যা সময়ের সঙ্গে মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। সিঁড়ির অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসীরা নতুন করে এই পুকুর ও তার সংলগ্ন স্থাপনার ইতিহাস জানার দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় প্রবীণরা মনে করছেন, এই পুকুর ও তার সংলগ্ন শিবলিঙ্গ এবং কালী মূর্তির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। অনেকের মতে, অতীতে জমিদাররা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য মন্দির সংলগ্ন জলাধার তৈরি করতেন, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও ব্যবহৃত হতো।
তবে প্রশাসন বা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পর্যবেক্ষণ করুক। এলাকাবাসীরা আশা করছেন, বিশেষজ্ঞদের দ্বারা এই প্রাচীন সিঁড়ি এবং পুকুর সংলগ্ন স্থাপনার ইতিহাস তদন্ত করে সঠিক তথ্য সবার সামনে আনা হবে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ইতিহাস অনুসন্ধান পরিষদের সভাপতি এবং ইতিহাসবিদ বঙ্গরত্ন হিমাংশু কুমার সরকার জানিয়েছেন, “দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা যে কত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী, তা এই ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকেই বোঝা যায়। মূর্তিগুলোর সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি এবং এটি জেলার ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানায়। প্রশাসন যেন বিষয়টির প্রতি যথাযথ নজর দেয়।”
নাজিরপুরের এই রহস্যময় পুকুর স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রাচীন স্থাপনার এই চিহ্ন শুধু এলাকার ঐতিহ্য নয়, বরং এটি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে


