Type Here to Get Search Results !


 

ব্যস্ততম হাসপাতালগামী রাস্তার কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলায় পথে নেমে বিক্ষোভ ব্যবসায়ী সমিতির

ব্যস্ততম হাসপাতালগামী রাস্তার কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলায় পথে নেমে বিক্ষোভ ব্যবসায়ী সমিতির, প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারের লোকেরা তেড়ে আসছে বিক্ষোভে সামিল হয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মন্ত্রীর ভাই


ছবি আপনার নিউজ 

মালদা;তনুজ জৈন;১১সেপ্টেম্বর:
অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে রাস্তার কাজ।সাথে মানা হচ্ছে না সিডিউল।এর আগেও এই রাস্তার কাজে দুর্নীতি এবং বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা এসে কাজ পরিদর্শনও করে গেছেন।কিন্তু তারপরেও সঠিক ভাবে হচ্ছে না রাস্তার কাজ।এলাকার ব্যস্ততম রাস্তা হওয়ার কারণে ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন নিত্যযাত্রীরা।সাথে ক্ষতির সম্মুখীন এলাকার ব্যবসায়ীরাও।তাই এবার দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার দাবিতে পথে নেমে বিক্ষোভ ব্যবসায়ী সমিতির।পুজোর আগে কাজ শেষ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।সেই বিক্ষোভে সামিল এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর ভাই। সোমবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় ব্যবসায়ী সমিতির এই বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সৃষ্টি হয় যানজট।প্রসঙ্গত হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার রামবিধু মোড় থেকে হাসপাতালগামী মনসা মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার রাস্তা ঢালাই এর কাজ শুরু হয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন ফিতা কেটে ঘটা করে সেই রাস্তার কাজের উদ্বোধন করে ছিলেন।মাঝে নির্বাচন চলাকালীন বন্ধ থাকে কাজ। কিন্তু নির্বাচনের পরে পুনরায় কাজ শুরু হতেই স্থানীয়রা রাস্তার কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে।প্রশ্নের মুখে পড়ে ঠিকাদারের ভূমিকা। যদিও পরবর্তীতে পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা এসে কাজ পরিদর্শন করে গেছিলেন। কিন্তু তারপরেও হাল ফেরেনি কাজের।অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে কাজ।ফলে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে ব্যাপক সমস্যা।এমনকি রাস্তার কাজের সামগ্রী ফেলা থাকছে রাস্তার উপরেই।যেখান থেকে ঘটছে দুর্ঘটনা।ব্যস্ততম এই রাস্তার কাজে ধীর গতিতে চলার ফলে কয়েক মাস ধরে এলাকার ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার কথা বারবার বলা হলেও তিনি কোন কর্ণপাত করছেন না।তাই দ্রুত এবং নিয়ম মেনে সঠিক কাজ করার দাবিতে এবার বিক্ষোভ করল হরিশ্চন্দ্রপুর ব্যবসায়ী সমিতি। ব্যবসায়ী সমিতির দাবি যে ভাবেই হোক দুর্গাপূজার আগে কাজ শেষ করতে হবে।বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক পবন কেডিয়া, সভাপতি ডাবলু রজক, সাগর দাস সহ আরো অনেকে। সাথে সামিল ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের ভাই শেখ জামিরুদ্দিন। যিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। পেশায় নিজেও একজন ব্যবসায়ী।ঠিকাদারের ভূমিকায় একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনিও। এমনকি তার অভিযোগ নির্মীয়মান রাস্তার ওপর বিভিন্ন সামগ্রী পড়ে থাকায় যানজট হচ্ছিল। তিনি সেটা সরাতে বললে রাস্তার কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা লোকেরা তার উপর তেড়ে আসে।


হরিশ্চন্দ্রপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক পবন কেডিয়া বলেন, প্রচন্ড ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে। ঠিকাদার চাইলে এই কাজ পাঁচ দিন শেষ হয়ে যেত। প্রত্যেকদিন মাত্র ৫ থেকে ১০ মিটার রাস্তার কাজ হচ্ছে। এলাকাবাসীর যেমন ভোগান্তি হচ্ছে সাথে ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তাই আমাদের দাবি পুজোর আগে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক।


ব্যবসায়ী তথা প্রতিমন্ত্রীর ভাই শেখ জামির উদ্দিন বলেন, আমি তো বলব এটা ঠিকাদারের গাফিলতি। হাসপাতালগামী এই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করছে।কিন্তু কাজ ধীরগতিতে চলার ফলে প্রচন্ড সমস্যা হচ্ছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে আমাদের ব্যবসায়ীদের। আমি তো আজকে বলতে গেলাম উল্টা ঠিকাদারের লোকজন আমার উপরেই চড়াও হচ্ছে।


বিক্ষোভকারী সুদর্শন অধিকারী বলেন, যে রাস্তার কাজ ১০ দিনে হয়ে যাবে। সেখানে চার থেকে পাঁচ মাস লেগে যাচ্ছে। আমাদের তো প্রচন্ড সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা। প্রত্যেকদিন কত মানুষ যাতায়াত করছে। কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয় তাই আজ আমরা বিক্ষোভ করছি।


উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় ব্যস্ততম এই রাস্তার কাজ শুরু হয়। সেই সময় হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছিল রাস্তার কাজ। প্রত্যেকটা জায়গায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছিলেন খোদ প্রতিমন্ত্রী।উন্নয়নের বড়াই করেছিলেন মন্ত্রীমশাই। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার কাজে বারবার গাফিলতির অভিযোগ। এবার প্রতিবাদে সরব ব্যবসায়ীরাও। প্রশাসনের কী টনক নড়বে? উঠছে প্রশ্ন।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Clickadu
```
```
```

Top Side