![]() |
| ছবি- আপনার নিউজ |
মালদা;তনুজ জৈন;১৬ফেব্রুয়ারী: কর্মীসভা থেকে পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে কর্মীদের ভোকাল টনিক সজলের, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ, মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলা কটাক্ষ, সরগরম জেলা রাজনীতি
পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে কর্মীদের ভোকল টনিক দিলেন সজল ঘোষ। নিজের স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ। দুর্নীতি থেকে বেকারত্ব একের পর এক ইস্যুতে ক্রমাগত বিধলেন শাসক দলকে। মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলে কটাক্ষ। ঊর্ধ্বমুখী জেলা রাজনীতির পারদ।
বৃহস্পতিবার মালদা জেলার রতুয়ার মহানন্দাটোলা ফুটবল মাঠে কর্মীসভা ছিল বিজেপির। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি মুখপাত্র সজল ঘোষ, উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত, ব্লক কনভেনার অর্ধেন্দুশেখর রায়, যুব নেতা অভিষেক মিশ্র সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।সেখানেই মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন সজল ঘোষ।
তিনি বলেন এই রাজ্যে কোন শিল্প এবং কর্মসংস্থান নেই। লক্ষীর ভান্ডারের ৫০০ টাকা দিচ্ছে। অন্যদিকে মদের দাম কমিয়ে সেই টাকা নিয়ে নিচ্ছে। দিদির দূত কর্মসূচি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন সজল ঘোষ। তিনি বলেন দিদির দূতেদের মানুষ ভূত করে দিয়েছে।
কলকাতা থেকে তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব কাজ দেখতে আসছিল না। কোন পঞ্চায়েত সদস্য কত টাকা তুলেছে এবং সেটা কলকাতায় পাঠিয়েছে কি না সেটা দেখতে আসছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলেও আক্রমণ করেন সজল ঘোষ। তার দাবি এমনিতেই ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে মহিলারা বার্ধক্য ভাতা পাবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ৬০ বছর বয়স হলে তিনি ভাতা দেবেন।
এদিকে বার্ধক্য ভাতার টাকা দেয় কেন্দ্র সরকার। করোনার ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের ভুয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পঞ্চায়েত ভোটের জন্য কর্মীদের চাঙ্গা করতে ভোকাল টনিক দেন সজল ঘোষ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন ভোটের দিন এবং গণনার দিন প্রত্যেককে সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে।তৃণমূল এখন থেকেই ভোট লুটের ভয় দেখাবে ভয় পেলে চলবে না।
লড়াই করতে পারলে তৃণমূল পালাবে। মানুষ রুখে দাঁড়ালে রাবণের শ্রীলঙ্কার মত অবস্থা হবে এই রাজ্যের। তিনি আরো বলেন, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ওপর এরা ঢিল মারছে। এদিকে মমতা যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তিনি কিছু করতে পারেননি।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সজল ঘোষ বলেন, এখানে কর্মীরাই আমাদের উদ্বুদ্ধ করছে। প্রত্যেকে তৈরি পঞ্চায়েত ভোটের জন্য। আমি বলেছিলাম সুর্পনখার রাজ্য কারোর নাম নিয়ে বলি নি। তার জন্য আমার নামে এরা অভিযোগ করেছে। কাল এসে জামিন নিয়েছি।তৃণমূলের জেলা সভাপতি রহিম বক্সিকে আমি চিনি না। উনি হয়তো মদন মিত্রের সঙ্গে একটু বেশি মেলামেশা করেন। তাই ওনার কথার গুরুত্ব দেব না।
প্রসঙ্গত গতকাল মালদা জেলায় এসে পৌঁছান বিজেপি মুখপাত্র সজল ঘোষ। কিছুদিন আগে রতুয়ায় একটি কর্মীসভা থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী কে সুর্পণখা বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জেলা সভাপতি রহিম বক্সি। সেই মামলাতেই গতকাল বুধবার চাঁচল মহকুমা আদালতে জামিন নেন সজল ঘোষ। তারপর বৃহস্পতিবার রতুয়াতেই কর্মী সভা করলেন। তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলকে। যা নিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে সরগরম জেলা রাজনীতি।
