মালদা;তনুজ জৈন;১৯ফেব্রুয়ারী: শিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে মা কমলেশ্বরীর মন্দিরে পার্শ্ববর্তী বিহার এবং ঝাড়খন্ড থেকেও ভিড় জমিয়েছে বহু পুণ্যার্থী, এই বছর রেকর্ড সংখ্যক ভিড়, উৎসবের মেজাজ এলাকা জুড়ে
শিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে মা কমলেশ্বরীর মন্দিরে ভক্তদের সমাগম। বাংলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিহার এবং ঝাড়খন্ড থেকে ভিড় জমিয়েছে পুণ্যার্থীরা। সমগ্র এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ। বসেছে গ্রাম্য মেলা। মন্দির নির্মাণ এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সাহায্যের আবেদন মন্দির কমিটির।
মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত তুলসিহাটা থেকে চন্ডিপুর যাওয়ার মধ্যবর্তী রাস্তায় মা কমলেশ্বরীর মন্দির। মা কমলেশ্বরী হলেন তান্ত্রিক প্রধান দেবীদের অর্থাৎ দশ মহাবিদ্যার অষ্টম তম মহাবিদ্যা। তুলসীহাটার স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ রাম এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন বহু বছর আগে।
এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে এক গল্প। মন্দিরের স্থানে প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ রাম বেল গাছের তলায় একটি পাথর দেখতে পান। স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি সেই পাথরের পূজা শুরু করেন। সেখান থেকেই একটি অস্থায়ীঘর নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠা হয় মা কমলেশ্বরী মন্দিরের। নিয়ম অনুসারে শুরু হয় পূজো।
এগিয়ে আসে এলাকার যুবকেরা। প্রত্যেকদিন নিয়ম অনুসারে পূজা হয় মন্দিরে। প্রত্যেক মঙ্গল এবং শনিবার করে আর অমাবস্যা তিথিতে ভিড় হয় ভক্তদের। এছাড়াও শিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে, রাখি পূর্ণিমার দিনে এবং রামনবমীতে বহু মানুষের সমাগম হয়। এই মন্দিরেই রয়েছে শিবলিঙ্গ।
শিবরাত্রির দিনে সেখানে পুজো এবং জল ঢালার জন্য আসে ভক্তরা। শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকা অথবা মালদা জেলা নয় পার্শ্ববর্তী বিহার এবং ঝাড়খন্ড থেকেও পূজো দিতে এসেছে ভক্তরা। সকলের বিশ্বাস শিবরাত্রির দিনে এখানে পূজো দিলে মনস্কামনা পূরণ হবে। বসেছে গ্রাম্য মেলা। কার্যত উৎসবে মেতে উঠেছে এলাকাবাসী।
মন্দির কমিটির সম্পাদক অলক সিনহা বলেন, বহু মানুষের ভিড় হয়েছে। করোনার ভ্রুকুটি কেটে যাওয়াই অন্য তিন বছরের তুলনায় এই বছর ভিড় অনেকটা বেশি। এই মন্দিরের অনেক গল্প এবং ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে মন্দির নির্মাণের কাজে সরকারের সহযোগিতা পেলে আমাদের সুবিধা হবে। রামনবমীর দিন নতুন মন্দির উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
সমগ্র এলাকাতেই মা কমলেশ্বরী দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। মানুষের বিশ্বাস দেবী তাদেরকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করে। তাই বিভিন্ন পুণ্য তিথিতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এই মন্দিরে।


