Type Here to Get Search Results !

ভুয়া এতিম দেখিয়ে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট এর টাকা লোপাটের অভিযোগ বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলায়

মেহেরপুরে ভুয়া তালিকা করে এতিমের টাকা লোপাট
 

বাংলাদেশ,আল আমীন ও মাহবুব হাসান টুটুল:-
বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলায় মেহেরপুর  এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এ ভুয়া এতিম দেখিয়ে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট এর টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে অনেক শিক্ষার্থীদের এতিম দেখানো হলেও বাস্তবে এরা এতিম নয় অনুসন্ধানে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।একটি এতিমখানার ভুয়া তালিকা সংশোধন করতে যেয়ে এক সমাজসেবা কর্মকর্তার নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার দাবি, ভুয়া এতিম দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। 

মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, মেহেরপুর জেলায় বেসরকারি ভাবে সরকারের তালিকাভুক্ত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত ১০টি এতিমখানায় মোট ৫৮৩ জন এতিম  রয়েছে, যার মধ্যে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দের আওতায় আছে ২৫৬ জন। আবার সরকারি দুইটি শিশু পরিবারে মোট ২০০ আসন বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে বালক শিশু পরিবারে ৪০ জন ও বালিকা শিশু পরিবারে ৭৬ জন নিবাসী পাওয়া যায়। তবে সরকারি শিশু পরিবার গুলিতে ১০% আসন প্রবীণ কর্ণারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোন প্রবীনের দেখা মেলেনি।


বেসরকারিভাবে পরিচালিত এতিমখানাসমূহের আর্থিক সামর্থ্য বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়নে ও এতিম শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিতসহ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, মেধা বিকাশ এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষা বেস্টনীর আওতাভুক্ত করে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে সমাজসেবা অধিদফতরে নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানায় ভর্তিকৃত এতিম শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী মোট এতিম দরিদ্র শিশুর ৫০ শতাংশ  ক্যাপিটেশন বরাদ্দের আওতায় মাথা পিছু মাসে দুই হাজার করে বছরে দুইবারে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেহেরপুরের অধিকাংশ এতিমখানাতেই এই টাকা আত্মসাৎ করতে ভুয়া এতিম তালিকা বানানোর অভিযোগ উঠেছে।
মেহেরপুর জেলায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দের আওতায় ২৫৬ জনের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ষাট লক্ষ আটচল্লিশ হাজার টাকা ছাড় করা হয়, আবার ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রথম কিস্তিতে ৩০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ছাড় করার প্রক্রিয়া চলমান।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মেহেরপুর গাংনী উপজেলার মালসাদহ পূর্বপাড়া এতিমখানা সিদ্দিকীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এতিমখানার ১৩০ জন এতিম নেই। সেখানে রয়েছে সাকুল্যে ৮-১০ জন, তবে শিক্ষক-ছাত্র কেউই কথা বলতে রাজি না হওয়াতে সকলেই এতিম কিনা এটা জানা সম্ভব হয়নি। 
অনুসন্ধান করে জানা যায় ২০০৫ সালে নিবন্ধিত হও্য়ার পর থেকে  কখনোই সেখানে ১৩০ জন এতিম ছিলো না। দীর্ঘদিন যাবৎ ৮ থেকে ১০ জন এতিম ও দুস্থ নিয়েই  চলছে এই এতিমখানা।
জানা যায় সাবেক ও বর্তমান একাধিক সচিব ও ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে তাদের বরাদ্দ সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হয়। এ ব্যাপারে এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিক বার সরাসরি ও ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।কৌশলে তারা মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ফোন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
জেলা সমাজসেবা অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। 
 
গাংনীর বাদিয়াপাড়া মহব্বতপুরের মহসিনিয়া এতিমখানায় লিষ্টে ৬০ জন এতিম দেখানো হলেও সেখানে প্রকৃত এতিম আছে ২১ জন, তবে এতিম ও দুস্থ সহ মোট ৫৬ জন নিবাসী পাওয়া যায় আর সরকারি বরদ্দ পচ্ছে ৩০ জনের। একই অবস্থা গাংনীর মানিকদিয়া এগারপাড়া এতিমখানা  ও দারুচ্ছুন্নাত লিল্লাহ বোডিং ও কুটির শিল্প সংস্থার। 

মেহেরপুর সদরে আমঝুপি আলিম মাদ্রাসা ও মহিলা হিফজখানা এতিমখানায় ২০ জন এতিম ও দুস্থ নিবাসীর বিপরীতে ১০ জনের বরাদ্দ পাচ্ছে সেখানে আপাত ভাবে তেমন কোন অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। তবে গোভীপুর দাখিল মাদ্রাসা লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানায় এতিম ও দুস্থ মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিবাসীর বিপরীতে ২০ জন এতিমের বরাদ্দ দেখা যায়। মোট নিবাসীর চেয়ে বরাদ্দ বেশি কেন এ বিষয়ে এতিমখানার দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন ব্যাক্তির সাথেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মুজিবনগর উপজেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত দারিয়াপুর হাফিজিয়া এতিমখানা ও ভবরপাড়া এতিমখানায় নিবাসী ও বরাদ্দের সংখ্যার মিল পেলেও প্রকৃত এতিমের সংখ্যা অনেক কম বলে অভিযোগ।

তবে এত অনিয়মের মধ্যে গাংনী উপজেলার গাংনী এতিমখানা ও দারুল ইয়াতিম এতিমখানা কিছুটা ব্যাতিক্রম। তাতে ১১ ও ১৫ জনের বরাদ্দের বিপরিতে ৪০ ও ৪৭ জন নিবাসী পাওয়া যায়। তবে এই দুই এতিমখানার সুপার অকপটে স্বীকার করেন বর্তমানে প্রকৃত এতিম পাওয়া খুবই দুরহ। অনেক এতিম এখন এতিমখানায় না থেকে সাবলম্বী হতে হোটেল ও চায়ের দোকানে কাজ করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তবে তারা দাবী করেন তাদের এতিমখানায় শতভাগ এতিম না থাকলেও যারা আছেন তারা প্রকৃত দুস্থ। 

এছাড়াও বেসরকারি এতিখানাগুলি দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে মোটা অংকের বরাদ্দ পেয়ে থাকে, যেমন কাতার চ্যারিটি। তদুপরি বিবিন্ন সময় অধিকাংশ এতিমখানা এতিমদের দিয়ে রাস্তা থেকে টাকা ওঠায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি বলেন, এতিমখানায় যে অনিয়ম হয় না, এমন নয়। আমরা ইতোমধ্যে অনেকের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট সমন্বয় করেছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে এতিম না পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়া হবে। এসব অনিয়ম বন্ধে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
```
```
```

Top Side