মালদা;তনুজ জৈন;২৬ফেব্রুয়ারী: আমের মরশুমের প্রাক্কালে আমের জেলাতেই মুকুল থাকা অবস্থায় নির্বিচারে আম গাছ কাটার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে বনদপ্তরের ভূমিকা, ক্ষুব্ধ শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই
আসছে আমের মরশুম।ইতিমধ্যেই গাছে গাছে মুকুল চলে এসেছে।মালদা জেলার আম বিখ্যাত সারা দেশে।আর সেই জেলাতেই এবার রাতের অন্ধকারে এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকে মুকুল থাকা অবস্থাতেই নির্বিচারে কাটা হচ্ছে আমগাছ।যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ শাসক-বিরোধী দুই পক্ষেরই। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার ঘটনা। মালদা জেলার আম বিখ্যাত সারা দেশে। জেলার ব্যবসা, জেলার অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভর আমের উপর। আসছে আমের মরশুম।
আর এরকম আবহতেই এক সাথে ৪০ টি আম গাছ কাটার অভিযোগ উঠল হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার রামনগরে। রাতের অন্ধকারে এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকেও কাটা হচ্ছে আমগাছ। মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্তে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নিয়ম অনুযায়ী একসাথে তিনটির বেশি আমগাছ কাটার অনুমতি পাওয়া যায় না।
সেখানে বন বিভাগ কি ভাবে এতগুলো গাছ কাটার অনুমতি এক সাথে দিল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই ভাবে গাছ কাটা চললে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে আশঙ্কা পরিবেশ প্রেমীদের। সমগ্র ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।বিজেপির অভিযোগ শাসকদলের এক গোষ্ঠীর মদত রয়েছে এতে।আর অন্য গোষ্ঠী আটকাতে চাইছে। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল।তবে প্রশাসনের ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ শাসকদলের নেতারাও। সমগ্র ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবী জানাচ্ছে এলাকার পরিবেশপ্রেমী মানুষজন।
বিজেপির মালদা জেলা কমিটির সদস্য কিষান কেডিয়া বলেন, এখন আম গাছে মুকুল রয়েছে। এই অবস্থাতেই কেটে দেওয়া হচ্ছে গাছগুলো।আর এতগুলো গাছ একভাবে কাটার অনুমতি বনদপ্তর কি ভাবে দিল।গাছ কাটলে সেই জায়গায় গাছ লাগাতে হয় সেটা কি প্রশাসন দেখছে। এতে তৃণমূলের একগোষ্ঠীর মদত রয়েছে আর অন্য গোষ্ঠী বিরোধিতা করছে।
মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। এই ভাবে গাছ কাটা যায় না। প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ভাবে গাছ কাটা চলতে থাকলে পরিবেশ শেষ হয়ে যাবে। পরিবেশ নষ্ট হোক আমরা কেউ চাই না। এর বিরোধিতায় প্রত্যেক মানুষকে রাজনীতি নির্বিশেষে এগিয়ে আসতে হবে।
যদিও সমগ্র ঘটনা নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বনদপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কেন এতগুলো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হলো?কি স্বার্থ রয়েছে এর পেছনে?উঠছে বিভিন্ন প্রশ্ন।ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার মানুষদের মধ্যে।
