Type Here to Get Search Results !

তৃনমুলের গোষ্ঠীদন্দ আবার প্রকাশ্যে, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি এবং অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ কর্মী সমর্থকদের


মালদা;তনুজ জৈন;২৪ফেব্রুয়ারী
: তৃণমূলের ব্লক সভাপতি এবং অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ কর্মী সমর্থকদের একাংশের,  অঞ্চল চেয়ারম্যানের উস্কানিতেই বিক্ষোভ দাবি অঞ্চল সভাপতির, অঞ্চল চেয়ারম্যান শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ, অপরদিকে সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে বলে পাল্টা দাবি অঞ্চল চেয়ারম্যানের, প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, খোঁচা বিজেপির

পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আসছে তত প্রকট হচ্ছে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। একদিকে দুর্নীতি ইস্যু অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সংঘাত বারবার অস্বস্তিতে পড়ছে তৃণমূল। এই সুযোগেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। এবার প্রকাশ্যে এলো তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি এবং অঞ্চল চেয়ারম্যানের মধ্যে সংঘাত। একে অপরের বিরুদ্ধে তুলছে দুর্নীতির অভিযোগ।ব্লক সভাপতি এবং অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের একাংশের। এই বিক্ষোভ অঞ্চল চেয়ারম্যানের চক্রান্ত বলে দাবি করলেন অঞ্চল সভাপতি। সাথে তার বিস্ফোরক অভিযোগ নব-নির্বাচিত অঞ্চল চেয়ারম্যান বিজেপির দালাল। বিরোধী দল-নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে তিনি ভোট করিয়েছেন। সমগ্র ঘটনায় তৃণমূলকে খোঁচা বিজেপির। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত তুলসীহাটা অঞ্চল। ঠিক যে ভাবে তৃণমূল হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক কে সাংগঠনিক ভাবে দুই ভাগে ভাগ করেছে। সেই ভাবেই তুলসীহাটা অঞ্চলকেও এবার দুই ভাগে ভাগ করেছে শাসকদল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খতে প্রলেপ দিতেই শাসকদলের এই কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু তারপরেও থামতে চাইছে না তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত। তুলসিহাটা অঞ্চলের এক ভাগের অঞ্চল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন আশরাফী এবং অঞ্চল চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দিল রোজ। শুক্রবার দুপুরে এলাকার বড়োল বাজারে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ১(বি) ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস এবং অঞ্চল সভাপতি আবুল হোসেন আশরাফির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের একাংশ। তাদের অভিযোগ ব্লক সভাপতি মানিক দাস কারো মতামত না নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে অঞ্চল কমিটি গঠন করেছেন। নব-নির্বাচিত অঞ্চল সভাপতি দুর্নীতিগ্রস্ত।বুথে বুথে গিয়ে মিটিং করলে জনসমর্থন পাচ্ছেন না। বুথেও দুর্নীতি-গ্রস্তদের নিয়ে বুথ কমিটি গঠন করছেন। এরকম চললে পঞ্চায়েত ভোটে ভাল ফলাফল করতে পারবে না দল। তাই বিক্ষোভকারীদের দাবি আলোচনার ভিত্তিতে স্বচ্ছভাব মূর্তির কাউকে অঞ্চলের দায়িত্ব দিতে হবে দলকে। সাথে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ মোটা টাকার বিনিময়ের পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বন্টন করবে অঞ্চল সভাপতি। যদিও এই বিক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে নারাজ অঞ্চল সভাপতি আবুল হোসেন আশরাফী। পাল্টা তিনি অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা দলের কেউ নন। প্রত্যেকেই গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির হয়ে ভোট করিয়েছিল। অঞ্চল চেয়ারম্যান দিল রোজের চক্রান্তে তারা বিক্ষোভ করছে।সাথে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অঞ্চল চেয়ারম্যান দিলরোজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে গিয়ে তিনি মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভোট করিয়ে ছিলেন। এখন দলের ক্ষতি করতে চাইছেন।অন্যদিকে দিল রোজের দাবি এই বিক্ষোভের সঙ্গে তার কোন সংযোগ নেই। তার সঙ্গে জনসমর্থন রয়েছে তাই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে তৃণমূল ১(বি) ব্লক সভাপতি মানিক দাস এই ঘটনায় কোন মন্তব্য করতে চাননি। সমগ্র ঘটনায় একেবারে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপির দাবি রাজ্য জুড়ে এই ভাবে গোষ্ঠীদ্বন্দেই তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। 

বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মী হাসিবুল ইকবাল বলেন, ব্লক সভাপতি টাকার বিনিময়ে অঞ্চল কমিটি গঠন করেছে। অঞ্চল সভাপতি দুর্নীতিগ্রস্ত। সাধারণ মানুষ তাদের পাশে নেই। তারা দায়িত্বে থাকলে দলের ক্ষতি হবে। তাই দুর্নীতি গ্রস্তদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মী আব্দুল রাব্বানী বলেন, আমরা যারা দলের কর্মী তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে না। বুথে বুথে দুর্নীতিগ্রস্তদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে। এই ভাবে চলতে থাকলে এই এলাকা থেকে দল উঠে যাবে। তাই বিধায়কের কাছে অনুরোধ করব সঠিক মানুষকে দলের দায়িত্ব দিতে।

অঞ্চল সভাপতি আবুল হোসেন আশরাফী বলেন, যারা বিক্ষোভ করছে তারা দলের কেউ নন। এরা বিজেপির দালাল। অঞ্চল চেয়ারম্যান দিল রোজের উস্কানিতে এসব হচ্ছে। এরা নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত। দিলরোজ বিজেপির লোক।

অঞ্চল চেয়ারম্যান দিলরোজ বলেন, এই বিক্ষোভের সঙ্গে আমার কোন যোগ নেই। আমি চিকিৎসার জন্য বাইরে এসেছি। আর আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে এলাকার মানুষ রয়েছে।

উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, রাজ্য-জুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ওরা টাকার বিনিময়ে টিকিট দেবে বা কি করবে সেটা ওদের ব্যাপার। কিন্তু ওরা মানুষের জন্য যেটা করছে সেটা খুব খারাপ। মানুষ তৈরি হয়ে আছে এর জবাব দেওয়ার জন্য।

পঞ্চায়েত ভোটে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। কিন্তু সেই পথে সব থেকে বড় কাঁটা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ইস্যুতে আক্রমণ করছে তৃণমূলকে। কিন্তু ভোট যত এগিয়ে আসছে তত দেখা যাচ্ছে দলের মধ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে। স্বাভাবিক ভাবেই যার ফলে জনমানষে নষ্ট হচ্ছে তৃণমূলের প্রতিচ্ছবি। এর প্রভাব পড়তে পারে ভোটব্যাঙ্কে। এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
```
```
```

Top Side