নামেই হিন্দি স্কুল, কিন্তু পঠনপাঠন চলছে বাংলায়। এই বৈপরীত্য ঘিরে চর্চায় শহরের হিন্দি এফপি স্কুল। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয় এক সময় জেলার একমাত্র সরকারি হিন্দি মাধ্যম স্কুল হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১২-তে। অবকাঠামোর অভাব ও ভাষা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে অস্তিত্ব সংকটে প্রতিষ্ঠানটি।
শহরের আন্দোলন সেতুর কাছে অবস্থিত এই স্কুলের সংলগ্ন এলাকায় বহু হিন্দিভাষী পরিবারের বসবাস। প্রতিষ্ঠাকালে ১৫০-২০০ জন পড়ুয়া ছিল। হিন্দিভাষী শিক্ষক ও বইপত্র ছিল পর্যাপ্ত। এমনকি বাইরে থেকেও শিক্ষক এসে পড়াতেন। সেই সূত্রেই এলাকার নাম হয়ে ওঠে ‘হিন্দি স্কুল পাড়া’।
বাম আমলের শেষদিকে হিন্দি মাধ্যমে পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা শুরু হয়। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত তিন জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে কোনওমতে চলছে স্কুল। গোটা বিদ্যালয়ে রয়েছে মাত্র একটি ঘর, যা অফিস, স্টাফরুম ও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
করোনার আগে প্রায় ২৫ জন পড়ুয়া থাকলেও এখন তা অর্ধেকেরও কম। অধিকাংশ অভিভাবক উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকায় বড় স্কুলগুলিতে সন্তানদের ভর্তি করছেন। স্থানীয়দের মতে, ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিও ঝোঁক বাড়ছে। ফলে ৭১ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায়। প্রশ্ন উঠছে, টিকে থাকবে কি ‘হিন্দি স্কুল’, নাকি শুধু নামেই স্মৃতি হয়ে থাকবে তার অস্তিত্ব?
