রাজ্যে খাদ্য দুর্নীতির আবহের মাঝেই খবরের শিরোনামে হরিশ্চন্দ্রপুরের রাইস মিল, লোন পরিশোধ করতে না পারায় রাইস মিল সহ বন্ধকে থাকা ৪৬ শতক জমি বাজেয়াপ্ত করে দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, জমি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে জটিলতা, শোরগোল জেলায়
মালদা; তনুজ জৈন;০৮নভেম্বর: খাদ্য দুর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় সারা রাজ্য। ইডির হেফাজতে রয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিভিন্ন রাইস মিল। এই আবহের মধ্যেই ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পেরে খবরের শিরোনামে উঠে এলো এক রাইস মিল। পুলিশকে সাথে নিয়ে লোনের জন্য বন্ধকে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাইস মিল সিল করে দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে বচসা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। লোনে নাম না থাকা সত্ত্বেও এক ব্যক্তির ২৩ শতক জমি বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ। জোরপূর্বক বাজেয়াপ্ত করেছে ব্যাংক অভিযোগ ওই ব্যক্তির আইনজীবীর।যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ৪৬ শতক জমি বন্ধক ছিল লোনের জন্য।সেই জমিই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।অন্যদিকে জমি বাজেয়াপ্ত করার নোটিশ জারি করার পর থেকেই অসুস্থ মিল মালিক এবং তার স্ত্রী। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মিল মালিকের পরিবারের লোকেরা। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি সমস্তটাই আদালতের নির্দেশানুযায়ী করা হয়েছে। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার করিয়ালি এলাকার মা বিন্দুবাসিনী রাইস মিল। মিলের মালিকানায় থাকা নরসিং মুসাদ্দি, বিমলা মুসাদ্দি,কমল মুসাদ্দি এবং ববিতা মুসাদ্দির নামে ২০১০ সালে রাইস মিলের জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে পাঁচ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়।বর্তমানে সুদ সমেত যা আট কোটি টাকা হয়ে গেছে। ব্যবসা না চলায় ২০১৫-১৬ সাল নাগাদ বন্ধ হয়ে যায় এই রাইস মিল।এই লোনের জন্য ৪৬ শতক জমি বন্দক দিয়ে ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিল গ্রাহকরা।এদিকে রাইস মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় মিল কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক একাধিকবার নোটিশ জারি করলেও এখনো পর্যন্ত তিন দফায় ১৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ হয়েছে বলে জানা গেছে।লোন পরিশোধের এই সমস্যা নিয়ে মামলা গড়ায় শিলিগুড়ির ট্রাইবুনাল আদালত পর্যন্ত। সেখানেই রিকভারি বেঞ্চের রায় অনুযায়ী এদিন হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এবং ভালুকা ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে বন্ধকে থাকা জমি বাজেয়াপ্ত এবং রাইস মিল শিল করতে আসে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।সেখানে প্রক্রিয়া শুরু হতেই জটিলতা দানা বাঁধে।লোনের জন্য যে জমি বন্ধক দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে ২৩ শতক জমি রয়েছে প্রমোদ মুসাদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে। মিল কর্তৃপক্ষ এবং ওই ব্যক্তির দাবি তার নামে কোন লোন নেই।এই নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত শুনানি রয়েছে। কিন্তু তার মাঝেই ব্যাংক জোরপূর্বক জমি বাজেয়াপ্ত করেছে। এমনটাই অভিযোগ প্রমোদ মুসাদ্দিন এবং তার আইনজীবীর। এদিকে মিল মালিক এবং তার পরিবারের লোকেদের দাবি ব্যাংকের নোটিশের জেরে মিলের অন্যতম মালিক নরসিং মুসাদ্দি এবং বিমলা দেবী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।তারা বারবার ব্যাংকের সঙ্গে বসে এই মামলার নিষ্পত্তি করতে চেয়েছেন।কিন্তু ব্যাংক সেটা শুনল না। অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি লোন পরিশোধ করার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।কিন্তু তারপরও তারা পরিশোধ করেননি।তাই নিয়ম অনুযায়ী আদালতের রায় মেনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।যে ৪৬ শতক জমি বন্ধক দিয়ে লোন নেওয়া হয়েছিল।সেই জমিই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যা নিয়ে গোটা এলাকায় শোরগোল পড়েছে।
নরসিং মুসাদ্দির মেয়ে রেখা ডালমিয়া মুসাদ্দি বলেন, আমার বাবা প্রচন্ড অসুস্থ। হার্টের অপারেশন হয়েছে। আজকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ আসার পরে বাবা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা নিজেরাও চাইছি এটার নিষ্পত্তি হোক। ১৮ লক্ষ টাকা দিয়েছি। ব্যাংকের সঙ্গে বসতে চেয়েছি বারবার। কিন্তু ব্যাংক কিছু শুনলো না।
মিলের অন্যতম মালিক কমল মুসাদ্দি বলেন, আমাদের মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলে আমরা লোন পরিশোধ করতে পারিনি। এদিকে বাবা প্রচন্ড অসুস্থ। আর আমরা আমাদের জমি দেখিয়ে লোন নিয়েছিলাম। আরেকজন যার জমি বাজেয়াপ্ত করেছে তার নামে লোন হয়নি।
প্রমোদ মুসাদ্দি বলেন, আমি তো বাইরে থাকতাম। এই লোনের সঙ্গে কোন ভাবে জড়িত নয় আমি। কিন্তু আমার ২৩ শতক জমিও বাজেয়াপ্ত করে দেওয়া হলো। ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত শুনানি ছিল। ব্যাংক তো কিছু শুনলো না।
প্রমোদ মুসাদ্দির আইনজীবী বিশ্বজিৎ মাল বলেন, শিলিগুড়ির ট্রাইবুনাল কোর্টে কেস চলছে। ব্যাংক রিকভারি বেঞ্চের রায় দেখাচ্ছে। যারা লোন নিয়েছিল তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু আমার মক্কেলের যে মামলা তার শুনানি রয়েছে ডিসেম্বরে। ব্যাংক এইভাবে করতে পারে না।
কোর্টের প্রতিনিধি রজত চক্রবর্তী বলেন, কোর্টের পক্ষ থেকে আমাকে এই মামলায় পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকেরা রয়েছেন। তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। এখানে যা হলো তা কোর্টের রায় বহাল করার জন্য হলো।
