মিলছে না ন্যায্য মূল্য, বিফলে যাচ্ছে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, কেন্দ্র-রাজ্য কেউই তাদের কথা ভাবছে না, ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হরিশ্চন্দ্রপুরের পাট চাষীরা, পড়ের মরশুম থেকে পাট চাষ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, সংকটের মুখে এলাকার পাট ব্যবসা
![]() |
| ছবি - আপনার নিউজ |
মালদা;তনুজ জৈন;১২সেপ্টেম্বর: সঠিক দাম মিলছে না পাটের। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন পাট চাষীরা।কেন্দ্র এবং রাজ্য কেউই ভাবছে না তাদের কথা। অভিযোগ পাট চাষীদের।পন্ড হয়ে যাচ্ছে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাসের পর মাস পরিশ্রম। পরের মরশুম থেকে পাট না চাষ করার সিদ্ধান্ত। সরকারের কোর্টে বল ঠেলছে পাট ব্যবসায়ীদের সংগঠনও। দাম না পাওয়াই কমছে পাটের ফলন। মুখে কৃষক প্রেমের কথা বারবার বলা হলেও কেন পাট চাষীদের কথা ভাবছে না সরকার উঠছে প্রশ্ন?মালদা জেলার যে এলাকাগুলো পাট চাষে সমৃদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম হরিশ্চন্দ্রপুর ১ এবং ২ নম্বর ব্লক।
এই এলাকায় পাট চাষ এবং পাটের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। হরিশ্চন্দ্রপুরে থেকে কলকাতার জুট মিল গুলিতে পাট রপ্তানি হয়। এলাকার অর্থনৈতিক পাটের উপর অন্যতম ভাবে নির্ভরশীল। ব্যবসা সমৃদ্ধ এই এলাকায় মূল ভিত্তি হল পাট।কিন্তু এই মরশুমে পাটের সঠিক মূল্য না মেলায় বিপাকে পড়েছে পাট চাষীরা।পাট চাষ করতে প্রতি কুইন্টালে খরচ হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। কিন্তু দাম মিলছে ৪০০০-৪৫০০ টাকা। সাথে রয়েছে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি।পাটের বীজ বোনা থেকে শুরু করে জলে পাট ধুয়ে আশ ছাড়ানো সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যথেষ্ট পরিশ্রমের। কিন্তু এত কিছুর পরেও লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছে না পাট চাষীরা।ফলে স্বাভাবিক ভাবেই কমছে পাটের ফলন।পাটচাষীরা জানাচ্ছে পরবর্তী মরশুম তারা পাট চাষ একদম কমিয়ে দেবে। সেই জায়গায় তারা অন্য কিছু ফসল চাষ করবে। এদিকে পাটের ফলন কমে গেলে বিপাকে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদেরকেও। সার্বিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে এলাকার অর্থনীতি।
পাটচাষী নজরুল ইসলাম বলেন," মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের পরিশ্রম করতে হচ্ছে।কিন্তু সঠিকভাবে দাম পাচ্ছি না।লাভ তো দূরের কথা।চাষের যেটা খরচ সেই খরচই উঠছে না।কোন সরকার আমাদের কথা হচ্ছে না।
আরেক পাটচাষী নরহরি দাসের অভিযোগ,"এই ভাবে যদি দাম না পাই তবে আর পরের মরশুম থেকে পাটচাষ করবো না।এত পরিশ্রম করে আমরা তো কিছুই পাচ্ছি না।সংসার চলবে কিভাবে।পাটের জায়গায় অন্য কিছু চাষ করতে হবে।
উত্তর মালদা পাট ব্যবসায়ী জুট মিল সংগঠনের সম্পাদক গোপাল ভগৎ বলেন, "পাট চাষীদের অভিযোগ ন্যায্য। এরকম চলতে থাকলে সত্যি ফলন কমে যাবে।কিন্তু আমাদের হাতে তো কিছু নেই।কলকাতা থেকে আমরা যেমন দাম পাচ্ছি আমরা তেমন দাম দিচ্ছি।এক্ষেত্রে সরকারকেই কিছু করতে হবে।
এই চিত্র যে শুধু মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে তা নয়। রাজ্যের সর্বত্রই পাট চাষীদের একই অবস্থা। কলকাতা এবং হাওড়ায় ধুঁকছে জুট মিল গুলো। বারবার আন্দোলন করছে জুট শ্রমিকরা।কিন্তু পাট চাষ এবং পাটের ব্যবসার হাল ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার।


