মুখ্যমন্ত্রীর সাধের কন্যাশ্রী প্রকল্পে দুর্নীতির থাবা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের, একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগ, জেলা শিক্ষা দপ্তর কে দ্রুত অভিযোগ দায়ের করে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের, নির্দেশানুযায়ী দ্রুত অভিযোগ দায়ের হবে আশ্বাস জেলা শাসকের

ছবি:- আপনার নিউজ
মালদা;তনুজ জৈন;২০সেপ্টেম্বর: মুখ্যমন্ত্রীর সাধের কন্যাশ্রী প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির পর্দা ফাঁস।সাথে সবুজ সাথী সহ বিদ্যালয়ের একাধিক সরকারি প্রকল্প এবং বিদ্যালয় তহবিলের টাকা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তদন্ত সাপেক্ষে সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হাইকোর্টে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয় পরিদর্শক কে। যদিও সেই নির্দেশের পরেও এখন অভিযোগ দায়ের হয়নি এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দ্রুত অভিযোগ দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী তথা অভিভাবকেরা।
হাইকোর্টের এই নির্দেশ সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে জেলায়।অভিযোগ দায়ের করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস জেলা শাসকের। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের তালবাংরুয়া এলাকায় তালবাংরুয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল আলমের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরূপের অভিযোগ উঠে। অভিযোগ মোহাম্মদ খাইরুল আলম, কন্যাশ্রী প্রকল্প সবুজ সাথী প্রকল্প থেকে শুরু করে ছাত্রদের ছাত্রীদের একাধিক প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য কাটমানি নিচ্ছেন। এমনকি অবৈধ ভাবে দুর্নীতি করে টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী না এমন অনেক জনের নাম নথিভুক্ত করেছেন প্রকল্প গুলিতে।এছাড়াও মাদ্রাসার তহবিলের টাকা তছরূপ করেছেন।মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির নির্বাচন হতে দিচ্ছেন না নির্দেশ থাকার পরেও।অভিভাবকদের একাংশ শিক্ষা দপ্তরের কাছে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তারপরও কোন পদক্ষেপ না হলে তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।তারপরেই তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।নির্দেশানুযায়ী তদন্তের রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা পড়তেই অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিদর্শক কে অভিযোগ দায়ের করে পদক্ষেপনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। যদিও রায়ের পরেও এখনো পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি আধিকারিকদের পক্ষ থেকে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। এই প্রসঙ্গে অভিভাবক মোঃ তজিবুর রহমান বলেন, কন্যাশ্রী,সবুজ সাথী থেকে শুরু করে মোবাইলের ট্যাব দেওয়া। সব কিছুতেই উনি দুর্নীতি করেছেন।২০১৭ সালের শেষবার মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে অবৈধ পদ্ধতিতে হয়েছিল।পরে কোর্টের রায়ে বাতিল হয়। সামনে আবার আগামী মাসের ৯ তারিখ মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির নির্বাচন হবে। সেই প্রক্রিয়ায় যাতে উনি যুক্ত না থাকেন এটাই আমাদের দাবি। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে মালদা জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়ার দাবি, মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ প্রত্যেকটা পালন করা হবে। আমি দ্রুত অভিযোগ দায়ের করে নির্দেশানুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলবো।

