"সময়ানুবর্তীতা- নিরাপত্তা - উন্নত পরিষেবা" - এই তিনটি হল মূল মন্ত্র। কিন্তু যে চেয়ারটা খালি হচ্ছে সেটা আর পূরণ হচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিন কাজের চাপ বাড়ছে কর্মরত কর্মীদের ওপর। শুধুইকি কর্মীদের ওপর কাজের চাপ, উপযুক্ত সংখ্যক কর্মীর অভাবে পাল্লা দিয়ে বিঘ্নিত হচ্ছে সঠিক মানের পরিষেবা। সপ্রতি ভারতীয় রেলের (Indian Rail ) দৈন দশার প্রকৃত ছবিটা ধরা পড়েছে তথ্য জানার অধিকার আইনে অর্থাৎ রাইট (Right to Information Act ) টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট -এ। বিগত কয়েক বছরে ক্রমাগত কর্মী সংকচনের ফলে ভারতীয় রেলের উপযুক্ত পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিক্ষণে - এমনকি কর্মরত কর্মীদের ওপর যে বাড়তি কাজের বোঝা বাড়ছে তা রেলের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে খোদ রেলমন্ত্রী নিজেই মেনে নিয়েছেন।
সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Aswini Boishnob) কথাতেই তা বেশ স্পষ্ট। পরিস্থিতি যে বেশ উদ্বেগ জনক তা রেল (Rail Minister) মন্ত্রী স্বয়ং মেনে নিয়েছেন। রেল মন্ত্রক সুত্রে জানা গিয়েছে , বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে ভারতীয় রেলে মোট গ্রুপ সি কর্মী পদের সংখ্যা ১৪ লক্ষের ওপর। তার মধ্যে খালি অর্থাৎ শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে ৩ লক্ষের ওপর শূন্যপদ । যার জেরে ট্র্যাকপার্সন, পয়েন্টসম্যান, বিদ্যুৎকর্মী, সিগনাল এবং টেলিফোন অপারেটিং-এর কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়র, টেকনিশিয়ান্স, করণিক, গার্ড বা ট্রেন ম্যানেজার, স্টেশন মাস্টার, টিকিট কালেক্টর পদের অবস্থাও খুব খারাপ।
এ বিষয়ে ভারতীয় রেলের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন , এই কর্মী শূন্যের কথা যে মন্ত্রী আমলা থেকে রেলের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা জানেন না এমনটা নয়। কর্মী শূন্যের বিষয়টি নিয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট ওয়াকিবহল। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি যে কে সেই। নিয়োগের কোনও বালাই নেই। নিয়োগ তো দুরস্ত, উল্টে ভারতীয় রেলকে বেসরকারি করণের পথে হাঁটতে উদ্যত ভারত সরকার। পাশাপাশি কর্মী শূন্য রেল ব্যবস্থা নিয়ে শুধুমাত্র ভোট রাজনীতির মঞ্চে কখনও 'বুলেট ট্রেন' আবার কখনও 'বন্দে ভারত একপ্রেসের' মতো ট্রেন উদ্বোধনেই ব্যাস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিরোধীদের অভিযোগ অবশ্য এমনটাই। কিন্তু বিরোধীরা যাই বলুক প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বলে কথা। আসলে তিনি স্বপ্নের কারিগর, নতুন পথের দিশারি।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্নে যে ভারতীয় রেলের তিন মূল মন্ত্রই খান খান হওয়ার জোগাড় তা রেলের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের কথায় বেশ স্পষ্ট। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন , ভারত সরকার ক্রমাগত রেলের পথ সম্প্রসারণ করছে , ফলে রেলের পরিধি বাড়ছে দিনের পর দিন। এর পাশাপাশি উন্নত এবং উচ্চ গতি সম্পন্ন রেল পরিষেবার দাবি , ফলে শূন্যপদ পূরণ যে অতি প্রয়োজন খোদ রেলমন্ত্রী নিজেই সে কথা মানছেন, সম্প্রতি সম্প্রতি রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন, রেলে বিপুল শূন্যপদ রয়েছে। প্রতিটি জ়োনকে তাঁর নির্দেশ ছিল, দ্রুত যেন নিরাপত্তা এবং টেকনিক্যাল শাখায় শূন্যপদ পূরণ করা হয়।
বর্তমানে ভারতীয় রেলের দৈন দশার প্রকৃত করুন অবস্থা তুলে ধরে এক রেল কর্মীর দাবি , পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ডবল শিফটে কাজ করেও কুল করা যাচ্ছেনা। তাঁর কথায় , ভারতীয় রেলের সু-ব্যবস্থা কে বজায় রাখতে অবিলম্বে কর্মী নিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেল মন্ত্রক এ বিষয়ে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নেয় কি না সেটাই এখন দেখার। তবে কর্মী শূন্য রেলের অবস্থা বেশ শোচনীয় তা বলাই বাহুল্য।