মালদা;তনুজ জৈন;০৪ফেব্রুয়ারি: এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো মালদহের মালতীপুরের জালালপুর অঞ্চলে।পুলিশ জানায়,মৃতার নাম নাজেমা খাতুন(৩০)।
দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।মৃত ওই গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজনেরা অবশ্য বিষপাণ করিয়ে খুনের অভিযোগ করেছেন জামাই ও তার শ্বশুর শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও পরিবার সহ স্থানীয় সূত্র থেকে আরোও জানা যায়,মৃতা ওই গৃহবধূ বাবার বাড়ি চাঁচল থানার চন্দ্রপাড়া অঞ্চলের বাঘাপাড়ায়।প্রায় ১২ বছর আগে তাদের প্রতিবেশী জালালপুর অঞ্চলের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জনৈক যুবক আশরাফুল হকের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়।আশরাফুল পেশায় একজন কৃষক।এবং তাদের এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।
বিয়ের একবছর পর থেকেই অতিরিক্ত পণের জন্য চাপ দেওয়া হত বধূর শ্বশুরবাড়ির তরফে বলে অভিযোগ।হামেশাই মারধর করা হত।মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হত বলে অভিযোগ বধূর বাপের বাড়ির।এনিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। শুক্রবার ছাগলে চাল খাওয়া নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিবাদ হয়।মায়ের পক্ষ নিয়ে গৃহবধূর স্বামী আশরাফুল তাকে মারধর করে।
এবং বিষ খাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।ওই শ্বশুরবাড়ির লোক জনেরাই তাকে প্রথমে মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে।পরে ওই গৃহবধূকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়।পরে নাজেমার বাবার বাড়িতেও খবর দেওয়া হয়।বাবার বাড়ির লোকেদের দাবি,আমরা মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়েও মেয়েকে দেখোএ পায়নি।পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি,যে মেয়েকে চাঁচল সুপার স্পেশাল্যাটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।চাঁচল হাসপাতালেই মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।এবং মেয়ে মুখ দিয়ে ফেনা পড়ছে সেটাও দেখতে পায় তার বাবা।
ওই গৃহবধূর বাবা মজিবুর রহমান বলেন,আমার মেয়েকে মারধর করা হয়।এবং পরে তাকে বিষ খাইয়ে খুন করা হয়েছে।তার স্বামী আশরাফুল ও শ্বশুর শাশুড়ি সহ আটজন জন জড়িত রয়েছে ঘটনায় বলে অভিযোগ।তিনি আরোও বলেন,অভিযুক্তদের কঠোর সাজা চাই।তাই থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে,সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
