মালদা;তনুজ জৈন;১৭ফেব্রুয়ারী: বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে সিএসপি চালানোর অভিযোগ, মুখ খুললেই ফাঁসানো হচ্ছে মিথ্যা মামলায়, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অঞ্চল সভাপতিকে দায়ী করলেন অভিযুক্ত সদস্য, প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, খোঁচা বিজেপির
তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য আবার গ্রামেরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ব শিক্ষক।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিদ্যালয়ের জায়গা অন্যায় ভাবে দখল করে সে ব্যাংকের সিএসপি চালাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সেই সিএসপি থেকে বলপূর্বক মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে তুলে নিচ্ছে টাকা। নিয়মিত ভাবে আসছে না বিদ্যালয়ে। সাথে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। এমনকি তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য।
তার পাল্টা দাবি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে চক্রান্ত করে এই সব বিক্ষোভ করাচ্ছেন। যদি অঞ্চল সভাপতি জানিয়েছেন এই বিক্ষোভের সঙ্গে তার যোগ নেই। দুর্নীতি বাজদের দলে আর ঠাই হবে না বার্তা দিয়েছেন তিনি। ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সমগ্র ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে খোঁচা বিজেপির। তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের হুসেনপুর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য অলোক পোদ্দার।
তিনি আবার হুসেনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ব শিক্ষক।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ওই বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে একটি সিএসপি চালাচ্ছেন কয়েক বছর ধরে।এমনকি বোলপুর্বক এই সিএসপি থেকে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে আবাস যোজনার জন্য কাটমানির টাকা তুলে নিচ্ছেন।এলাকা জুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছেন।ঠিকঠাক ভাবে যাচ্ছেন না বিদ্যালয়ে।
আর তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন মিথ্যা মামলায়।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসুর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের এলাকাবাসীর।সাথে চলতে থাকে বিক্ষোভ।এলাকাবাসীর দাবি অলক পোদ্দার যাতে ভবিষ্যতে কোন পদ না পায়।সে পঞ্চায়েত নির্বাচনে আবার প্রার্থী হলে তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার হুঁশিয়ারি বিক্ষোভকারী এলাকাবাসীর।পাল্টা অলোক পোদ্দারের দাবি ওই সিএসপি তিনি চালান না।
তার এক নিকটবর্তী আত্মীয়ের সিএসপি। আর যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারাই বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে রেখেছেন। অঞ্চল সভাপতি মোহাম্মদ নুর আজম তাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য চক্রান্ত করে বিক্ষোভ করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অলক পোদ্দার। যদিও মহম্মদ নুর আজম বলেছেন এই বিক্ষোভের সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই। অলোক পোদ্দার দুর্নীতি করেছে তাই এলাকার মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। প্রশাসন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে তৃণমূলে কোন অনুশাসন নেই। যতদিন যাবে নিজেদের মধ্যে সংঘাত বাড়বে। অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভেই তৃণমূল শেষ হবে তীব্র খোঁচা বিজেপির। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী রুবেদা বেওয়া বলেন, আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে অলোক পোদ্দার। গ্রামের অনেককেই মিথ্যা মামলা দিয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা মহবুব আলম বলেন, অলোক পোদ্দার প্রচন্ড দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। আজ ওর বিরুদ্ধে কথা বলছি হয়তো কালকেই ফাঁসিয়ে দেবে।
বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা অন্যায় ভাবে দখল করে রেখেছে অলক পোদ্দার। তার স্ত্রী পঞ্চায়েত এবং এসএসকে দুই জায়গায় কাজ করে। দুই জায়গা থেকে সরকারের সাম্মানিক নিচ্ছে। অলোক পোদ্দার দুর্নীতি করছে। এর বিরুদ্ধেই আমাদের অভিযোগ এবং বিক্ষোভ।
পঞ্চায়েত সদস্য অলক পোদ্দার বলেন, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। যারা বিক্ষোভ করছে বরং তারাই বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে রেখেছে। অঞ্চল সভাপতি মোহাম্মদ নূর আজমের উস্কানিতে এরা বিক্ষোভ করছে। এই ভাবে বেশি দিন চলবে না।
কুশিদা অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি মোঃ নুর আজম বলেন, সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এর সঙ্গে আমার কোন যোগাযোগ নেই। তবে মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি বলে দিয়েছে কোন দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। অলোক পোদ্দারের বিরুদ্ধে যে ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে দলকে ভেবে দেখতে হবে।
উত্তর মালদা জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ আগারওয়াল বলেন, যত দিন যাচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে তত ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়ছে। এই দলের কোন অনুশাসন নেই। এটাই এদের সংস্কৃতি। এই ভাবেই তৃণমূল একদিন শেষ হবে।
প্রসঙ্গত বিগত কয়েকদিন ধরে সরগরম কুশিদা অঞ্চলের রাজনীতি। অঞ্চল সভাপতির সঙ্গে অলক পোদ্দারের সংঘাত বারবার প্রকাশ্যে আসছে। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে অলোক পোদ্দারের বিরুদ্ধে। সমগ্র ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবে অস্বস্তি বাড়ছে শাসকদলের। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
