Type Here to Get Search Results !

মালদায় বিহার থেকে এসে বিয়ের প্রতারণায় গ্রেফতার এক অভিযুক্ত


মালদা;তনুজ জৈন: বিহার থেকে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা, বুঝতে পেরেই থানায় অভিযোগ মেয়ের বাড়ির লোকের, পুলিশের তৎপরতায় শ্রীঘরে ভুয়ো পাত্র এবং বৌদির পরিচয় দেওয়া তার স্ত্রী, বিয়ের নাম করে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল দাবি মেয়ের বাড়ির লোকের, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির, পাল্টা তৃণমূল, সমগ্র ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য এলাকায়

বিহার থেকে এসে আত্মীয়র মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব।পাত্রর সম্বন্ধে খোঁজ নিয়ে দেখতে গিয়ে চক্ষুচড়ক গাছ মেয়ের বাড়ির লোকের। পাত্র ইতিমধ্যেই বিবাহিত। তারা বুঝতে পারে তাদের মেয়েকে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। সাথে সাথে অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ বিয়ে করতে আসা ভুয়ো পাত্র এবং বৌদির পরিচয়ে আসা তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। সমগ্র ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য এলাকায়। তৃণমূলের মদতেই বিহারের দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্ত অভিযোগ বিজেপির। মমতা ব্যানার্জির জামানায় রাজ্যের সকল মেয়ে সুরক্ষিত। অপরাধীরা ছাড় পায় না পাল্টা তৃণমূল। তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত তালশুর গ্রামের বাসিন্দা শোভা পাশওয়ান এবং সন্তোষ পাশওয়ান। দিন আনে দিন খাওয়া পরিবার। বাড়িতে বিবাহযোগ্য মেয়ে। কিছু দিন আগে স্থানীয় পরিমল মহলদার তাদের পাত্রের খোঁজ দেয়। সে জানায় তার আত্মীয়ের কাছে সুযোগ্য পাত্র আছে। সেই নিয়ে কথা বার্তা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। বিহারের পাটনা থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরে মেয়ে দেখতে আসে উদল কুমার যাদব এবং কাঞ্চন দেবী। উদল কুমার যাদব আসে বিয়ের উদ্দেশ্যে। কাঞ্চন দেবীকে তার বৌদি বলে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে মেয়ের বাড়ি থেকে বিহারের পাটনাতে তাদের বাড়ি যায়। সেখানে এলাকাবাসীর থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে উদল কুমার যাদব তাদের সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছে। সে ইতিমধ্যে বিবাহিত। যাকে বৌদি বলে পরিচয় দিয়েছে সেই কাঞ্চন দেবী তার স্ত্রী। মেয়ের বাড়ির লোক বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হতে যাচ্ছিল। তাদের অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের মেয়েকে বিয়ের নাম করে নিয়ে গিয়ে পাচার করে দেওয়া হতো। অভিযুক্তদের ফোনের কিছু কথোপকথন কানে আসে তাদের। তারা সেখানে কিছু প্রকাশ করে না। বিয়ের জন্য তারা উদল কুমার যাদব কে ডাকে। তারা হরিশ্চন্দ্রপুরে এলেই তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ জানায় মেয়ের বাড়ির লোকেরা। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ সাথে সাথে উদল কুমার যাদব এবং বৌদির পরিচয় নিয়ে আসা তার স্ত্রী কাঞ্চন দেবি কে গ্রেপ্তার করে। পাত্রের খোঁজ দেওয়া স্থানীয় পরিমল মহালদার পলাতক। সমগ্র ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিশচন্দ্রপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য কি ছিল? তাদের সঙ্গে বড় কোন নারী পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না? এর পেছনে আর কারা কারা রয়েছে? সকল প্রশ্নের উত্তর বের করার জন্য ধৃতদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এদিকে সমগ্র ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিজেপির দাবি তৃণমূলের মদতেই ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীরা এসে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালাচ্ছে। যদিও পাল্টা তৃণমূলের দাবি মমতা ব্যানার্জির আমলে সকল মেয়ে সুরক্ষিত। অপরাধীরা কেউ ছাড়া পাবে না।


অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ পাশওয়ান বলেন, আমরা বিহারে যখন পাত্রের বাড়ি দেখতে যাই তখন সব কিছু জানতে পারি। পাত্র ইতিমধ্যেই বিবাহিত। কিন্তু সেখানে সব প্রকাশ করলে অপরাধীদের ধরা যেত না। তাই তাদের বিয়ের কথা বলে হরিশ্চন্দ্রপুরে নিয়ে আসি। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে পরবর্তীতে কোন মেয়ের ক্ষতি না হয়।


জেলা বিজেপি কমিটি সদস্য কিষান কেডিয়া বলেন, রাজ্য-জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিহার থেকে এসে এই সাহস কেউ পাবে না যদি না তৃণমূলের মদত থাকে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ বলেই অপরাধীদের এত বাড়বাড়ন্ত।


হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক আইএনটিটিইউসির সভাপতি সাহেব দাস বলেন, কেউ যদি ভাবে বিহার থেকে এসে এই রাজ্যের মেয়েদের ক্ষতি করবে তারা ভুল ভাবছে। এখানকার পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয়। বাংলায় মেয়েদের সুরক্ষা আছে। কোন অপরাধী বাঁচতে পারবে না।


হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি দেওদূত গজমের জানান থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। গোটা ঘটনা তদন্ত চলছে।


সমগ্র ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত এলাকাবাসী। যদি তাদের বাড়ির লোক বুঝতে না পেরে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিত তবে কি হত। ভাবতে গেলেই শিউরে উঠছে সকলে। তাদের মত অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী দাবি জানাচ্ছে পুলিশের উচিত সমগ্র ঘটনা সামনে আনা। সাথে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। যাতে পরবর্তীতে কেউ এই ধরনের কাজ করার সাহস না পায়।



Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
```
```
```

Top Side