পতিরাম গার্লস প্রাইমারি স্কুলে ফের একবার সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। সোমবার বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকদের একাংশ। অভিযোগ, পরীক্ষার নাম করে ছাত্রছাত্রী পিছু ১০০ টাকা করে চেয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেখা বর্মণ। এছাড়াও স্কুলের বিভিন্ন কাজের জন্য অতিরিক্ত টাকার দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জানুয়ারি মাসে এই বিদ্যালয়ে নতুন হেড টিচার হিসেবে যোগ দেন রেখা বর্মণ। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন একাধিক অভিভাবক। তাদের দাবি, মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অজুহাতে অভিভাবকদের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রত্যেক অভিভাবকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
অভিভাবক সুপর্ণা সরকার বলেন, 'হেড দিদিমণি বলেছেন, যদি কেউ অভিভাবক মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকে তবে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এমনকি মিড ডে মিলের খাবারও ঠিকমতো হয় না। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক।'
আরেক অভিভাবক মাম্পি চক্রবর্তী বলেন, 'কোয়েশ্চেন পেপারের জন্য ছাত্রছাত্রী পিছু ১০০ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। আবার স্কুলের কাজের জন্যও টাকার দাবি করা হয়েছে।'
অভিভাবক সোমা রায় জানান, 'প্রতিবার মিটিং হলেই টাকার কথা বলা হয়। এই আর্থিক চাপে পড়েই অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে চারজন ছাত্রছাত্রী টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে চলে গেছে।'
গতকালই দুই সন্তানকে টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়া অভিভাবক মানসী মন্ডল সরকার বলেন, 'স্কুলে প্রতিনিয়ত অশান্তি চলছে। তার উপর বারবার টাকার চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের যদি এত সামর্থ্য থাকত, তাহলে বেসরকারি স্কুলেই পড়াতাম। তাই বাধ্য হয়েই সন্তানদের এই স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।'
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেখা বর্মণ। তিনি জানান, 'স্কুলের গোটা বছরের তিন পর্বের পরীক্ষার জন্য ১০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো টাকা চাওয়া হয়নি।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহকর্মীদের অসহযোগিতার কারণেই বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, 'এক বছর হয়ে গেলেও ভিইসি-এর অ্যাকাউন্ট আমার নামে হয়নি। বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের নাম একাধিক শ্রেণিতে দেখিয়ে সংখ্যাও বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। বিদ্যুতের বিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বৃষ্টি হলেই স্কুলের ভেতরে জল জমে যায়। এত সমস্যার মধ্যে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।'
এমনকি সহকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকদের মধ্যে মিথ্যে রটনা ছড়িয়ে আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে।'
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট পূর্ব চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মৃন্ময় সরকার জানান, 'ঘটনার খবর পেয়েছি। বুধবার স্কুলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।'


