বালুরঘাট | ২৮শে ফেব্রুয়ারী, শনিবার দুপুরে বালুরঘাট ব্লকের মাহিনগর স্কুল পাড়ায় বাঁশশিল্পের উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ভারত সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে এবং বালুরঘাট মঙ্গলদীপ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পরিচালনায় "বাঁশের জীবিকা ভিত্তিক ব্যবসা ও বিকাশ সহায়তা কেন্দ্র"-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন *বালুরঘাটের বিধায়ক ড. অশোক কুমার লাহিড়ী, তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, "গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাঁশশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।"
বালুরঘাট বিধায়ক ড. অশোক কুমার লাহিড়ী বলেন, "এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, বিপণন সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে বাঁশশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এটি স্থানীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ।"
স্থানীয় এলাকার মানুষজন বলেন, "বাঁশশিল্পের বিকাশে এমন উদ্যোগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি গ্রামের মানুষের জীবিকা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।"
নবনির্মিত বাঁশের জীবিকা ভিত্তিক ব্যবসা ও বিকাশ সহায়তা কেন্দ্রটি বাঁশশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করবে। এছাড়া, এই কেন্দ্র স্থানীয় বাঁশশিল্পের পণ্যগুলিকে বিপণনের জন্য সহায়তা করবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গ্রামের বাসিন্দারা ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের বহু মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং বাঁশশিল্পের পণ্যগুলির বাজার সম্প্রসারিত হবে।
একজন স্থানীয় শিল্পী বলেন, "আমাদের বাঁশের কাজ এতদিন শুধুমাত্র স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারব। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সাহায্যে আমাদের কাজের মানও উন্নত হবে।"
এই উদ্যোগ বাঁশশিল্পের বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এমন জনমুখী ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন।
