বছরের প্রথম দিনেই প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, একই ব্লকে বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতির প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে পৃথক অনুষ্ঠান, পঞ্চায়েতে ভরাডুবির দায়ভার ব্লক সভাপতির উপর চাপিয়ে পঁচা আপেল বলে কটাক্ষ বিধায়কের, নাম না করে ব্লক সভাপতিকে আক্রমণ করলেন যুব সভাপতিও, সমগ্র ঘটনা নিয়ে খোঁচা বিজেপির, তুঙ্গে তরজা
মালদা;তনুজ জৈন;০১জানুয়ারি: নতুন বছরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব পিছু ছাড়লো না তৃণমূলের।বছরের প্রথম দিনে প্রতিষ্ঠা দিবসে একই ব্লকে বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতির পৃথক অনুষ্ঠান। পঞ্চায়েতে ভরাডুবি নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ব্লক সভাপতি কে পঁচা আপেল বলে কটাক্ষ করলেন বিধায়ক।ব্ল ক সভাপতির বিরুদ্ধে তুললেন দুর্নীতির অভিযোগ। নাম না করে ব্লক সভাপতিকে আক্রমণ শানালেন যুব সভাপতিও। পঞ্চায়েতের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে উগড়ে দিলেন ক্ষোভ। এদিকে দুটি পৃথক অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেল স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্যাকে।লোকসভার প্রাক্কালে আরো চওড়া হচ্ছে শাসকের অভ্যন্তরের ফাটল।যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের চাঁচল বিধানসভার অন্তর্গত (বি) জোনে এ দিন দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান হয়।বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ কুশিদা অঞ্চলের কাপাই চন্ডিতে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান করেন।অন্যদিকে ব্লক সভাপতি মানিক দাস কুশিদা অঞ্চলেরই ভাটল এলাকায় অনুষ্ঠান করেন। এদিকে দুটি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থেকে পতাকা উত্তোলন করলেন জেলা পরিষদ সদস্যা মর্জিনা খাতুন। এদিন বিধায়ক নিহার ঘোষ মঞ্চ থেকে ব্লক সভাপতি মানিক দাস কে তীব্র আক্রমণ করেন।পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভরাডুবির সমস্ত দায়ভার চাপান ব্লক সভাপতির উপর।পচা আপেল বলে মানিককে কটাক্ষ করেন নিহার। বিধায়ক বলেন একটি ঝুড়িতে একটা পঁচা আপেল থাকলে বাকি আপেল গুলোকেউ পচিয়ে দেয়। পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট বিতরণ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেন তিনি। তার অভিযোগ প্রার্থী হিসেবে বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতি স্বাক্ষর নিয়ে যাদের নাম পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্লক সভাপতি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের পরিবর্তন করেছিলেন।তাই এই জোনের চারটি অঞ্চল হাত ছাড়া হয়েছে তৃণমূলের।এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ (বি) ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি শেখর সাহাও নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করেন মানিক দাস কে। তিনিও পঞ্চায়েতের টিকিট দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।পরবর্তীতে বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, যেহেতু মানিক দাসের জন্য ভরাডুবি তাই তাকে পঁচা আপেল বলা হয়েছে।আর মানিক দাস যেটা অনুষ্ঠান করছেন সেটা প্রকৃত তৃণমূলের অনুষ্ঠান না। শুধু পয়সা কামানোর জন্য তিনি সেটা করছেন। যদিও বিধায়কের মন্তব্য প্রসঙ্গে মানিক দাস কিছু না বললেও তিনি দাবি করেন রাজ্যের নির্দেশে তিনি এই অনুষ্ঠান করছেন।যেখানে প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দুস্থ মানুষদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করা হচ্ছে।পাশাপাশি জেলা পরিষদ সদস্যা মর্জিনা জানান আমাকে দুটি অনুষ্ঠানেই ডাকা হয়েছিল তাই আমি গেছি। বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির মধ্যে কি সমস্যা সেটা জানি না। অপরদিকে টিকিটের টাকার ভাগ বিধায়ক কে দেয়নি হয়তো তাই এই দ্বন্দ।এমন ভাষাতে কটাক্ষ বিজেপির।
