দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের প্রচারে বিরোধীরা, ক্যাম্পে গড়হাজির তৃণমূল সদস্যরা, তৃণমূল কাটমানি নিতো তাই মানুষ এতদিন সুবিধা পেত না খোঁচা বিরোধীদের, পাল্টা জবাব তৃণমূলের
![]() |
| ছবি - আপনার নিউজ |
মালদা;তনুজ জৈন;০৯সেপ্টেম্বর: বিরোধী জোটের দখলে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে দুয়ারে সরকার শিবিরে ব্যাপক সারা মানুষের। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য লম্বা লাইন। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভিড় জমিয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরাও। বিরোধীরাই মমতার দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের প্রচার করছেন মানুষের মধ্যে।কিন্তু ক্যাম্পে উপস্থিত নেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা। তৃণমূল ঐ পঞ্চায়েতে এতদিন ক্ষমতায় থাকার জন্য বহু সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়নি। শুধুমাত্র কাটমানির ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হয়েছে খোঁচা বিরোধীদের।পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েনি তৃণমূলও। সমগ্র ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রসঙ্গত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েত সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। কেন্দ্রে একদিকে যেমন বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট হয়েছে। এখানে তার উল্টো ছবি। তৃণমূল বিরোধী তিন রাজনৈতিক দল বিজেপি, সিপিআইএম এবং কংগ্রেস নিজেদের মধ্যে জোট করে তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে।বিরোধী জোটের পঞ্চায়েতের কাজ শুরু হওয়ার পর প্রথম দুয়ারে সরকার শিবির শুরু হয়েছে তুলসীহাটায়।তুলসীহাটা কৃষক বাজারে চলছে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। সেখানেই দেখা গেল মানুষের লম্বা লাইন।এলাকার মহিলা থেকে শুরু করে কৃষক শ্রমিক সকলে এসেছেন দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে।তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।প্রকল্পের সুযোগ পাওয়ার আশায় ভিড় জমিয়েছেন ক্যাম্পে। বিজেপি, কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যদের দাবি এতদিন সাধারণ মানুষ সঠিক ভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাই নি। যারা যোগ্য তারা পেত না। যারা কাটমানি দিত তারা পেয়ে যেত। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও ব্যাপক দুর্নীতি করেছিল তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত। এখন আর সেই দুর্নীতি হবে না। প্রত্যেকটা মানুষ সঠিক ভাবে সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাই মানুষের এত উৎসাহ এবং সারা। যদিও পাল্টা তৃণমূলের দাবি দুয়ারে সরকার ক্যাম্প মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে হচ্ছে যাতে সকল মানুষের সুবিধা হয়। ৩৪ বছরের বাম আমলে তো সেটা হয়নি। তাই বিরোধীদের মুখে এই সব কথা মানায় না।
দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আসা পরিযায়ী শ্রমিক মুকলেসুর বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য শুনছি রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। তাই এসেছি যদি কোন সুবিধা পাওয়া যায়। দেখা যাক আদৌ কোন সুবিধা পাই কি না।
আঙ্গারমনি বুথের সিপিআইএম পঞ্চায়েত সদস্য ফরমান আলী বলেন, এতদিন এখানে তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল। তাই সাধারণ মানুষের জন্য কোন কাজ হয়নি। সব কিছুতেই তো কাটমানি নিত। এবার আমরা মানুষের জন্য কাজ করব। সকলের কাছে যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যায় সেই চেষ্টা করব।
তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য অসিত চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রচুর মানুষের ভিড় হয়েছে। আমরাও রয়েছি এখানে কারো যাতে কোন সমস্যা না হয়। নিয়ম অনুযায়ী সকলেই যাতে প্রকল্পের সুবিধা পাই সেই দিকে আমরা নজর রাখছি।
তৃণমূলের যুব নেতা মোহাম্মদ রাজুর পাল্টা দাবি, এই সরকারি প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনেছেন। এর জন্য উনাকে ধন্যবাদ। বিরোধীদের কাজ বিরোধিতা করা। আজ সকল মানুষ সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না।সিপিএম আমলে যেটা ছিল না। তাই এসব বলে কোন লাভ নেই।
প্রসঙ্গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে শুরু হয় রাজ্য সরকারের দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সংযোগ স্থাপনে কোন সমস্যা না হয় তাই এই উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য। এবার বিরোধীদের দখলে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।


