কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকার উপকন্ঠ সাভারে রানা প্লাজার ধ্বস ও শ্রমিক মৃতুর ঘটনায় অভিযুক্ত রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নেই। অনিরাপদ পরিবেশে পোশাক শ্রমিকরা কাজ করে। তেমন পরিবেশের স্বীকার রানা প্লাজায় মারা যাওয়া শ্রমিকরা। ঐ ভবন ধ্বসে ১ হাজার উপরে শ্রমিক মারা যায়। ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় । এর মধ্যে ৪৩০ জন মাথায় গুরুত্বর আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন, ৩৬৩ জন পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে গেছে, ২৯৯ জন হাত ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে গেছে, ২০৫ জনের বুকের পাঁজর ভেঙ্গে গেছে, ১৪০ জনপর মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে, ২৮৮ জন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে। ১৮ জন হাসপাতালে ও নিজ বাড়ীতে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় মারা যায়। বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করা ও ঝুকিপুর্ণ ভবনে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করে মালিক সোহেল রানা। তাই তার জামিন স্থগিত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলেন।
আজ(রবিবার) সুপ্রিম কোর্টের জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মুল ফটকে এই সমাবেশ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের একাধিক জোট। এসময় ছিলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন প্রমুখ। সমাবেশে 'রানা প্লাজা হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চায়', 'ভবন মালিকের সর্বোচ্চ শাস্তি চায়' সম্বলিত বিভিন্ন পোস্টার দেয়া যায়।
ঢাকার উপকন্ঠে সাভারে রানা প্লাজা ধসে হতাহতের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ভবনমালিক সোহেল রানাকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। সেই জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি আগামীকাল ৮ মে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরফা মিশু বলেন, সোহেল রানার জামিন স্থগিত শুধু নয়, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, এখনো শ্রমিকরা ক্ষতিপুরন পায়নি। এই অবস্থায় সোহেল রানাকে দেয়া হাইকোর্টের জামিনে আমরা আতঙ্কিত। এই জামিনের ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হবে। শ্রমিক হত্যাকে উৎসাহিত করা হবে।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের এর সদস্য মঞ্জুর মঈন এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, শবনম হাফিজ, রাজু আহমেদ, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।


