মমতা এবং অভিষেক জেলা থেকে যেতেই রাতের অন্ধকারে সরকারি জমি দখল করে মাটি কেটে ক্যানেল ভরাটের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সিভিক ভলেন্টিয়ার তথা তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী, বিক্ষোভ এলাকাবাসীর, এলাকাবাসীর অভিযোগ কে সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভে সামিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, খোঁচা বিজেপির, সাফাই তৃণমূলের, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
মালদা;তনুজ জৈন;০৮মে: রাতের অন্ধকারে সরকারি জমি দখল করে মাটি কেটে জলাভূমি ভরাট করার অভিযোগ। যে জলাভূমি গ্রামের একমাত্র নিকাশি ব্যবস্থার পথ। দখল এবং ভরাটের অভিযোগ উঠেছে থানার এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। যিনি আবার শাসকদলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। দিনের আলো ফুটতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর। সমগ্র ঘটনা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা এলাকায়। রক্ষকই ভক্ষক। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার।বিস্ফোরক অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর সুরে সুর মিলিয়ে বিক্ষোভে সামিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। মমতা এবং অভিষেক জেলা থেকে যেতেই ফের প্রকাশ্যে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম। প্রশ্নের মুখে রাজ্যের শাসকদল এবং প্রশাসনের ভূমিকা।সাফাই তৃণমূলের। তীব্র কটাক্ষ বিজেপির। ফের অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সরনপুর গ্রামের ঘটনা।ওই গ্রামেরই তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা ফারহানা রহমানের স্বামী উমর ফারুক। তিনি আবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার।তার বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে সরকারি জমি দখল করে মাটি কেটে ক্যানেল ভরাটের অভিযোগ। যে ক্যানেল গ্রামের এক মাত্র নিকাশি ব্যবস্থার রাস্তা।আর যা নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দিনের আলো ফুটতেই ঘটনাস্থলে যায় গ্রামবাসীরা। সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের দাবি কোন ভাবেই এই জমি দখল হতে দেওয়া যাবে না।ক্যানেল ভরাট করলে গ্রামের চাষবাস ব্যাপক ক্ষতি-গ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। সাথে এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার সমগ্র গ্রামের সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।তার ভয়ে সব সময় সন্ত্রস্ত থাকছে এলাকার মানুষেরা।এমনকি এলাকাবাসীর অভিযোগে সহমত পোষণ করে অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ধর্মা মন্ডল। যেখানে পুলিশের কাজ আইন রক্ষা করা। সেখানে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়ে কিভাবে আইন ভাঙলেন ফারুক উঠেছে প্রশ্ন?ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়। যদিও অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার উমর ফারুক ক্যামেরার সামনে কোন মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে বিজেপির দাবি মাটি মাফিয়াদের পেছনে শাসকদল এবং প্রশাসনের একাংশের মদত রয়েছে। সেটা এই ঘটনায় দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেছে। আইন আইনের পথে চলবে। পাল্টা সাফাই তৃণমূলের।
বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, এই জমি সরকারের জমি। গ্রামের সকল মানুষের এই জমিতে অধিকার রয়েছে। ক্যানেল বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের গ্রামে মারাত্মক অসুবিধা হবে। ফারুক রাতের অন্ধকারে জেসিবি দিয়ে মাটি খুঁড়ে ক্যানেল ভরাট করেছে।
বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী সাগর মন্ডল বলেন, এই জমি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। উনি যতই তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী হন এটা করতে পারেন না। যা হবে আইন অনুযায়ী হবে। আমরা প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ধর্মা মন্ডল বলেন, আমিও তৃণমূল করি। কিন্তু এটা সমগ্র এলাকার ব্যাপার। এলাকাবাসীর দাবি ন্যায্য। তাই সেই দাবিতে আমি সামিল হয়েছি। কেউ তৃণমূল করলে তো যা ইচ্ছা তা করতে পারবে না।
জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জম্মু রহমান বলেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কংগ্রেস এবং সিপিআইএমের পায়ের তলায় জমি নেই। তাই এই ধরনের চক্রান্ত করছে।
উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, এখন বিরোধীরা আর বিক্ষোভ করে না।তৃণমূল নিজেই নিজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। এক গোষ্ঠী কাটমানির ভাগ পাচ্ছে না তারা বিক্ষোভ করছে।
প্রসঙ্গত হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কোন নতুন ঘটনা নয়। বারবার সরকারি জমি দখলের অভিযোগে খবরে শিরোনামে উঠে এসেছে এই এলাকায়। সামনে এসেছে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা এবং ভরাটের অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। প্রশাসন সক্রিয় হলে কি ভাবে সাহস পাচ্ছে মাটি মাফিয়ারা? প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
