Type Here to Get Search Results !

Malda : রাস্তা বিতর্কে জড়িয়েছেন খোদ তৃনমুল জেলা পরিষদের সভাধিপতি


মালদা;তনুজ জৈন;২১ফেব্রুয়ারি: পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিতর্কে জড়াচ্ছে শাসক দল তৃণমূল৷ এবার রাস্তা বিতর্কে জড়িয়েছেন খোদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি৷ অর্ধেকের বেশি তৈরি হওয়া রাস্তাকেই ফের নতুন করে তৈরি করছে মালদা জেলা পরিষদ৷ বিরোধীদের কটাক্ষ, ভোট করার খরচ জোটাতেই এই কাজ করা হচ্ছে৷ রাস্তা তৈরির টাকা থেকে চুরি হবে৷ 


সেই চুরির ভাগ পৌঁছোবে কালীঘাট পর্যন্ত৷ যদিও এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সভাধিপতি৷ ঘটনাটি মালদার রতুয়া-১ ব্লকের বাহারাল পঞ্চায়েত এলাকার। এই পঞ্চায়েতের উত্তর সাহাপুর থেকে ধোবিমোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে হাত দিয়েছে জেলা পরিষদ৷ সূত্রের খবর এই রাস্তা তৈরীর জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকা৷ 


রাস্তাটি তৈরি হলে বাহারাল থেকে রতুয়া পর্যন্ত একটি পকেট রুট তৈরি হবে৷ কোনও কারণে মূল রাস্তা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এই পকেট রুট ব্যবহার করতে পারবে সমস্ত যানবাহন৷ কিছুদিন আগে ঢাক ঢোল পিটিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন রাস্তার কাজের সূচনা করেন।সঙ্গে ছিলেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখার্জি, মালতিপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বকসি সহ বেশ কিছু প্রশাসনিক আধিকারিকও৷ 

ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে মাটি ফেলার কাজ৷ কিন্তু এই রাস্তার প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা আগেই ঢালাই হয়ে রয়েছে৷ সেই অংশে কোনও কাজ হচ্ছে না৷ এমনকি রাস্তার কাজের কোনও বোর্ডও লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ৷এলাকায় গিয়ে বোর্ডের দেখাও অবশ্য পাওয়া যায়নি৷ বিরোধীদের অভিযোগ বোর্ড লাগালে সবাই জেনে যাবে কত টাকার কাজ?তাদের চুরি করতে অসুবিধা হবে, তাই বোর্ড লাগানো হয়নি।


এ বিষয়ে কংগ্রেসের রতুয়া-১ ব্লকের সভাপতি পরিতোষ সিং বলেন, পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আসতেই ঝোপ বুঝে কোপ মারা হচ্ছে৷টাকা চুরির জন্যই এই রাস্তা তৈরি হচ্ছে৷ সেই টাকা পঞ্চায়েত ভোটে লাগানো হবে৷ তৃণমূলের আমলে উন্নয়ন মানে কাটমানি আর চুরি৷ ১০ টাকার মধ্যে ন’টাকাই চুরি হয়৷ মানুষ সেটা ভালোই বুঝে নিয়েছেন৷ তৃণমূলের নেতারা সবাই কাটমানির উপর নির্ভর করে রয়েছেন৷ পঞ্চায়েতের টিকিট পেতে এখন ওই দলে লাইন পড়ে গিয়েছে৷ তার জন্য টাকা ঢালতেও কারও দ্বিধা নেই৷’


বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি সুকান্ত সিংহ বলছেন,কাজের কোনও ফলক নেই৷ কাজের বিষয়ে প্রশ্ন করলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ আমরা চাই রাস্তাটি হোক৷ কিন্তু কাজের নামে যেন টাকা চুরি না হয়৷ তার জন্য আমরা শাসকদল সহ প্রশাসনিক কর্তাদের আবেদন জানাচ্ছি৷ পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আসছে৷ তাই রাস্তার কাজও ঢিমেতালে চলছে৷ কারণ, কাজ যত দেরি হবে, তত বেশি কাটমানি পকেটে ঢুকবে৷’


সিপিএমের রতুয়া ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক নজরুল ইসলামের বক্তব্য, ‘তৃণমূল মানেই চোর আর লুটেরাদের দল৷ সামান্য কিছু কাজ করে এরা বিশাল অংকের টাকা চুরি করবে৷ সেই চুরির টাকা তৃণমূলের জেলা সভাপতি, জেলা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে একেবারে কালীঘাট পর্যন্ত যাবে৷এনিয়ে আমরা খুব তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামছি৷’


যদিও জেলা পরিষদের সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, ‘আরআইডিপির ফান্ডে ওই রাস্তাটি তৈরি করা হচ্ছে৷ কোনো বড় রাস্তার প্রকল্প ধরা হলে তার মধ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে আগে থেকে তৈরি কিছু অংশ থাকতেই পারে৷ প্রকল্পের বরাদ্দ তৈরির সময় সেই কাজ বাদ দেওয়া হয়৷ এখানেও সেটাই হয়েছে৷ কাটমানির কোনও বিষয় নেই৷ বিরোধীদের একমাত্র কাজই হল বিরোধিতা করা৷

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
```
```
```

Top Side