সুশোভন সিংহ - কিছুদিনের মধ্যেই বঙ্গে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটের দামামা বেজে উঠবে, ভারতের লোকসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির বঙ্গের পঞ্চায়েত ভোট অ্যাসিড টেস্ট।
বঙ্গ বিজেপির পঞ্চায়েত ভোটের পূর্বেই অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে দিল্লির দাদাদের আসতে হয়েছিল বহুবার। তবু কি সেই কোন্দল মিটেছে?
গত বিধানসভার আগে তৃণমূল থেকে বহু নেতাকর্মী বঙ্গ বিজেপিতে যোগদান করে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভা ভোটে কমবেশি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ৬১ জনসভা করে তবু আসনের গণ্ডি ১০০টি ছাড়তে পারে না বঙ্গবন্ধু বিজেপি, এর কারণ হিসেবে তখন বলা হয়েছিল বিধানসভা ভোটের পূর্বেই না দেখে শুনে দলবদলুদের দলে জায়গা দেওয়া এবং অনেক আসনেই লোকাল নেতৃত্বর প্রার্থ পছন্দ না হওয়া।
সামনে পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোট, লোকসভা ভোটের পূর্বে বঙ্গ বিজেপি এটিকে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখছে তবে সে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থী জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৫ শতাংশ আসনেই (বুথে) প্রার্থী পাচ্ছে না পদ্ম শিবির।
আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য বিজেপির দুই দিনের কর্ম সমিতির বৈঠক, এই দুদিনের বৈঠকেই দলের আভ্যন্তরীণ ফাঁকফোকর কি মিটিয়ে তুলতে পারবে বঙ্গ বিজেপি? দলের আভ্যন্তরের রিপোর্ট বলছে পঞ্চায়েত ভোটের দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি আশাবাদী নয় বঙ্গ বিজেপি। গামবাংলার অনেক বুথেই এখনও কমিটি তৈরি করতে পারিনি পদ্ম শিবির। দলের একাংশ নেতা মনে করছেন তৃণমূল পর্যায়ের কোন সংবাদ কেন্দ্র নেতৃত্ব কাছে ঠিকঠাক পৌঁছচ্ছে না। দুইদিনব্যাপী কর্ম সমিতির বৈঠকে কার্যত তুলকালাম হয়ে উঠতে পারে, কারণ সেই বৈঠকে পদ্ম শিবিরের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিত থাকা সম্ভাবনা রয়েছে।
গতবছরের শেষ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফলকালীন দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় দলের নিচু তলার কর্মীরা দলের আভ্যন্তরী সমস্যা তুলে ধরেছিলেন। বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বেদের নিজেদের মধ্যেই যে মতের পার্থক্য রয়েছে তা বেশ ঠাওর করতে পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুভেন্দু, দিলীপ বাবুদের বহুবার দিল্লিতে ডেকে পাঠালেও আদতে কাজের কাজ কতটা হয়েছে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কেন্দ্র নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির দুদিনের জাতীয় কর্ম সমিতির বৈঠকের সমাপ্তি ভাসনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন "ভোট পাওয়া যাবে না ধরেই দেশের শিক্ষিত সংখ্যালঘুদের কাছে পৌঁছাতে হবে দলের নেতৃত্বদের " তাৎপর্যভাবে বঙ্গে যে ২৫ শতাংশ বুধে পদ্ম শিবির প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না তা সংখ্যালঘু প্রবণ বুধে।
গত বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে সংখ্যালঘু ভোটাররা দুহাত তুলে আশীর্বাদ করেছিলন, মালদ, মুর্শিদাবাদ সংখ্যালঘু ভোটাররা বিগত দিনগুলো কংগ্রেস কিংবা সিপিএমকে ভোট দিলেও গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকেই তারা ভোট দিয়েছিল, কার্যত সেই কারণেই কংগ্রেস এবং সিপিএম শূন্যতে নেমে এসেছিল।
গত বিধানসভার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সেই অঞ্চল গুলোতে বিজেপি সেই ভাবে সংগঠনকে বিস্তারের চেষ্টা করেনি সেভাবে বলে মনে করছে দলের একাংশ। এমনকি বর্তমান সরকারের নানান প্রকারের দুর্নীতি হাতিয়ার করে গ্রামেগঞ্জে আন্দোলন সংগঠিত করতে ব্যর্থ বঙ্গ বিজেপি।
গত লোকসভায় উত্তরবঙ্গে বেশ ভাল ফল করেছিল বিজেপি, তার কৃতিত্ব যতটা না বঙ্গ বিজেপির তার থেকে বেশি মোদীর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল এছাড়া বিধানসভা ভোটে বিজেপির হয়ে যারা উত্তরবঙ্গে জিতেছিলেন তাদের মধ্যে একাংশ যোগ দিয়েছে তৃণমূলে।
আসন্ন দুদিন ব্যাপী কর্ম সমিতি বৈঠকে ত্রিস্ত্রর গ্রাম পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে কি রোড ম্যাপ তৈরি করে তা দেখার বিষয়।
