সুশোভন সিংহঃ- বেশ কয়েক মাস ধরেই লাদাখ সিমান্তে লাল ফৌজের বাড়বাড়ন্ত দেখা গেছে, ভারতীয় সেনার সাথে চিন সেনার হাতাহাতি লড়াইয়ের ছবি সম্প্রতি সবাই দেখেছে। এবার দাদার সীমান্তে মহড়া শুরু করল লাল ফৌজ,এবং সেই মোহরায় উপস্থিত ছিলেন খোদ জিনপিং।
লাদাখ সীমান্তে চিন সেনার (PLA) যুদ্ধ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেই সঙ্গে সীমান্তে মোতায়েন সেনার মনোবল বাড়াতে বিশেষ বক্তৃতাও দিয়েছেন তিনি। চিনের মিডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সীমান্তে মোতায়েন থাকা সেনার (China Army) সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট। গত কয়েক বছরে লাদাখের পরিস্থিতি অনেক পালটে গিয়েছে, সেই জন্যই সেনাকে সমস্ত সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন জিনপিং। তবে সশরীরে সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন না প্রেসিডেন্ট। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লালফৌজকে উৎসাহ জোগান তিনি।
ক্রমাগত চীনের আগ্রাসী মনোভাব বিশ্বজুড়ে পরিলক্ষিত, চীন সর্বদা তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তের অংশের সাথে নিজেদের অংশ অর্থাৎ চীনের ভূখণ্ডকে বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছি বহু বছর ধরে।
সেনার উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জিনপিং (Xi Jinping)। সীমান্ত এলাকায় কেমন কাজ করছে লালফৌজ, শত্রু দেশের আক্রমণের পালটা দেওয়ার জন্য তারা তৈরি আছে কিনা- সমস্ত বিষয়ই পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট। কঠিন পরিবেশে কেমন আছেন সৈনিকরা, তার খোঁজখবর নেন।
তারপর ভিডিও বার্তায় বলেন, সেনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিসপত্র দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। জিনপিং বলেছেন, “সীমান্তে খুব ভাল কাজ করছে সেনা। ভবিষ্যতেও একই ভাবে বীরত্ব সহকারে এগিয়ে যাবে লালফৌজ। দেশের ইতিহাসে নয়া অবদান রাখবে তারা।” প্রসঙ্গত, পূর্ব লাদাখের এই সীমান্তেই ২০২০ সালে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল দুই দেশের সেনা।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে ভারতীয় সেনার মারে পিছুপা হতে হয়েছিল লাল ফৌজ কে।
চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের তৈরি রাখতে চাইছে ভারত। কারণ সীমান্তে লালফৌজ কী ধরনের পরিবর্তন করতে চলেছে, তা চট করে নজরে পড়ে না। প্রসঙ্গত, তাওয়াং সংঘর্ষের পরে একাধিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছিল, ভারত সীমান্তে সেনা ও আধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে চিন।
সেই সময়েই বিশেষ সতর্কতা জারি করে বায়ুসেনা। সীমান্ত সংলগ্ন ঘাঁটিতে শক্তিশালী যুদ্ধবিমানগুলিও প্রস্তুত রাখা হয়। সীমান্তে মহড়াও শুরু করে বায়ুসেনা। সেই পরিস্থিতিতেই সীমান্তে মোতায়েন সেনার মনোবল বাড়াতে জিনপিংয়ের বিশেষ বার্তা থেকেই পরিষ্কার, ভারতের বিরুদ্ধে শক্তি বাড়াচ্ছে চিন।
