দক্ষিণ দিনাজপুরের বহু প্রতীক্ষিত বালুরঘাট-হিলি রেল সম্প্রসারণ প্রকল্প অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। দীর্ঘ ১৫ বছরের জটিলতা কাটিয়ে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ২৮.৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেলপথ চালু হলে সীমান্ত বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব আসবে। বিশেষত, বালুরঘাট এবং হিলির মধ্যে রেল সংযোগ দক্ষিণ দিনাজপুরের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি এই রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পকে তাদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যস্তরের শীর্ষ বিজেপি নেতারা এই প্রকল্পকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন, যাতে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই রেলপথ শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে। সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসার, কৃষিপণ্যের দ্রুত পরিবহণ এবং পর্যটনের বিকাশে এই রেলপথ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অন্যদিকে, একলাখী বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির সদস্যরা মনে করছেন, রাজ্যেও যদি বিজেপি সরকার আসে, তবে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগে এই রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে। তাদের মতে, দক্ষিণ দিনাজপুরের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে কেন্দ্র এবং রাজ্যের একযোগে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
বালুরঘাট থেকে হিলি অবধি রেল লাইনের দ্রুত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মহাশয়ের পাশাপাশি একলাখী বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, বালুরঘাট থেকে হিলি পর্যন্ত রেলপথ চালু হলে শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি এবং ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে জোর দিয়ে বলছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের ফলেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, ভবিষ্যতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।


