Type Here to Get Search Results !


 

লিঙ্গগত পার্থক্যের জন্যই শক্তিগত পার্থক্য নারীকে আলাদা করেছে পুরুষের থেকে!

জন্ম সূত্রে পুরুষ এবং স্ত্রীর শারিরীক ও সামর্থের পার্থক্য আছে। লিঙ্গগত পার্থক্যের জন্যই শক্তিগত পার্থক্য নারীকে আলাদা করেছে পুরুষের থেকে। 

ছবি - গুগুল 

সম্পাদকীয় কলম:-
জন্ম থেকে মৃত্যু, নারী কিংবা কন্যা শিশু। এরা কি কখনও নিরাপত্তার বাইরে থাকতে পেরেছেন ? না। জন্মের পরেই নারী তার পিতার  নিরাপত্তা নেয়। অর্থাৎ শিশুকালে নিরাপত্তা  পায় তার বাবার কাছে। যৌবণে সে নিরাপত্তা নেয় তার স্বামীর কাছে। বার্ধক্ষ্যে সে নিরাপত্তা পায় তার সন্তানের কাছে। এজন্যই কি নারীকে অবলা বলে ? জন্ম সূত্রে পুরুষ এবং স্ত্রীর শারিরীক ও সামর্থের পার্থক্য আছে। লিঙ্গগত পার্থক্যের জন্যই শক্তিগত পার্থক্য নারীকে আলাদা করেছে পুরুষের থেকে। আদিম যুগে মানুষের নেতৃত্ব নারীর থাকলেও বিজ্ঞান বিকাশের কারণে নারী সে নেতৃত্ব হারাতে প্রকারান্তে  বাধ্য হয়েছে নারী। বংশগতিতে কূল রক্ষায় যখন পুরুষের প্রভাবকে বিজ্ঞান প্রকাশ্য করেছে, তখন নারী তার আগের অবস্থানকে ধরে রাখতে পারেনি।

মানুষ বিধিবদ্ধ আবদ্ধ হয়েছে  সেই আদি থেকেই। যখন কিনা মানুষ মাইগ্রেট হতে হতে এক পর্যায়ে এক জায়গায় অন্তত: বাস করতে শিখেছে, ঠিক তখন থেকে। তারা আবদ্ধ প্রথমে পরিবারে, তারপরে গোষ্ঠীতে, এখান থেকে সমাজে। সমাজের চিন্তা চেতনা এবং প্রভাব থেকে এসেছে ধর্মীয় উপাদানে। যা ছড়িয়েছে সময়ের বাহন বেয়ে কাছ থেকে দূর পর্যন্ত। ব্যাক্তিক থেকে পরিবার। তা থেকে গোষ্ঠী এবং সমাজ হয়ে রাষ্ট্রে। মানুষের বিচরণ এভাবে যতই বেড়েছে ততই নিয়ম, নীতির বেড়াজালে তারা বেশি আবদ্ধ হয়েছে। তবে এই নিয়মই একদিন রূপ নিয়েছে এক অনুশাসনে। যার স্থায়ী বিন্যাস  হয়েছে প্রথমেধর্ম দিয়ে অত:পর আইনে। আর যাই হোক না কেন অনুশাসনের ধারা এবং উপধারায় ক্রমে ক্রমে পুরুষের চেয়ে শৃঙ্খল পরেছে নারীরাই আগে এবং সবচেয়ে বেশি করে। একবিংশ শতাব্দির যুগে এসেও আমাদেরকে বলতে হয় ‘ হে নারী জাগ্রত হও,নচেৎ নিগৃহীত হতে হবে।’ 

‘রূপা’ বলি হলো। এই সমাজ, রাষ্ট্র, গোষ্ঠী এমনকি আইন ও ধর্মীয় শাসনও তাকে বেঁচে থাকতে দিতে পারে নাই। তার মৃত্যু আমাকে ব্যাথিত করেছে, ব্যাথিত করেছে জাগ্রত সকল বিবেককে। সবাইকে করেছে লজ্জিত। রূপা নিজেকে জন্মের পর হতেই দক্ষ করে তুলেছিলেন। তিনি আমাদের সমাজের ভেগ কথা বুঝেছিলেন। তিনি আমাদের নৈতিকতায় স্পর্ধার পরিধি জানতেন। তিনি এও জানতেন অহেতুক গণিমতের উপাদান না হয়ে নিজে যেন নিজেকে সংযত করতে পারে। চলতে পারে। যেন শৃঙ্খলা তাকে উপহার না দিলেও তিনি যেন সবাইকে তা দিয়ে যেতে পারেন। যে জন্য ‘রূপা হতে তিনি হয়েছিলেন এক রূপান্বিতা পর্যন্তওÍ।’ অথচ মনুষ্যলয়েও কীটের বাস। রূপা হেরে গেলেন। জীবন যুদ্ধে তিনি হেরে গেলেন। সভ্যতা পরাস্থ হলো অসভ্যতার কাছে। শান্তি এক অশান্তিকে সক্রিয় করল। আমাদের সমাজটা কি আশ্চর্যের ! এখানে কেন যেন ভেজালটাই খাঁটি। দূর্নীতিবাজ শব্দটা সৎ ও সভ্যতার কারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে জন্য মানবিকতা, ধর্মীয় আইডোলোজি এবং আইনের কথা বললে মানুষ তা ভন্ডামি মনে করে।

আর এই জন্য রূপারা বাঁচে না। নির্ম্মমতার চিতার জলন্ত অগ্নি লেলিহানে তাদেরকে মরতে বাধ্য করা হয়। প্রথা ভেঙ্গে নারীকে বেড়িয়ে আসতে বলা হয়েছে যুগ যুগ বছর আগেও। আবার নারীকে গৃহে বন্ধি রাখতে চেষ্টা করা হয়েছে এটাও আদি থেকেই। সে কারণে নারীকে এখন মরতে হচ্ছে। তা হলে নারী কেন শাসনে আসন গেঁেড় বসে থাকবে। 

ইসরাত জাহান ভারতের পুরুষ সমাজের নির্ম্মমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। সুদূর বাসে স্বামীর মোবাইল তালাকের কাছে নিজেকে সমর্পন করেন নাই। আইনি দৌঁড়ে নাম লিখিয়ে তিনি জিতেছেন। আইন তাকে বলিকাষ্ঠ থেকে বাঁচিয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক নিষিদ্ধ করেছেন। যে আইনে ভারতে এখন অনেক মেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। নিয়তি একদিন যাদেরকে নি:সঙ্গ বাসর তৈরীর করে দিয়েছিল, তারা আজ আদালতের আদেশে নি:সঙ্গতাকে লাথি মেরেছে। এক সময়ে ইসরাত জাহান একা হয়ে গেলেও এখন আর তিনি একা নেই। বিচারে বিচারালয় অনাগ্রহ হলে নাগরিক অবলম্বন হারায়। প্রকৃতির প্রাণি হয়ে এক জনের জন্য আরেক জন অধিকার হারায়। মানবিকতা চ্যালেঞ্জের সন্মুখীন হয়। এতে জীবন নি:শেষ হয়। প্রকৃতি তার সৃস্টির প্রতি মায়া হারায়। মানুষের জীবনে বিষন্নতা আসে। এটা থেকে সে মুক্তির সিংহদুয়ার খুলতে চেষ্টা করে । 

শরীর বৃত্তে নারী শুধু ভোগের ছোঁয়ায়। তা কেন হবে ? সভ্য কিংবা অসভ্য সবখানে পুরুষের লালসার জন্য নারী নিরুপায়। রূপা ভেবেছিলেন নারী ভারী নয়। নিজেকে ঐ সময়েও একা না ভেবে ক’জন জানোয়ারের সাথে লড়াই করেই তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হয়েছেন। কেননা তার ছিল মানবিক সক্ষমতা, ছিল শক্তির অক্ষমতাও । এদেশেও নারী নির্যাতিত। কেননা গৃহকর্মে যে নারী কর্মী সুনিপুনা তার থাকে না স্ব-অধিকার। নির্যাতন হতে হয় যখন আরেক নারীর হাতে তখন নারী লজ্জিত হয় কি না জানিনা, তবে বাবা-মার বিবেচনায় অল্প বয়সী নারীকে যখন ভোগের সামগ্রী করে তুলে দেয়া হয় আরেক পুরুষের কাছে, নতুবা নারীকে বাধ্য হতে হয় আরেক পুরুষের শরীর সঙ্গি হতে। তখন নারী অবলা হলেও তাকে জন্ম দিতে হয় অসম জীবনে সন্তান নামের মাতৃত্ব এক উপাদানকে। গৃহকর্মী গৃহকর্তার জন্য গৃহ সজ্জিত করে। অথচ তার পরিচ্ছন্ন গৃহের বিছানার পরে, ঐ গৃহকর্মীর বসার কোন অধিকার থাকে না । তাকে আয়োজন করে রান্না করতে হলেও, পড়ন্ত বেলায় সে খেতে পায় খাবারের উচ্ছি¡ষ্টাংশ। সন্তানের খাবার থেকে লালন করা, যেন শুধুই মায়েরই দায়। যে জন্য মা হয় ‘কুঁড়ির আগেই বুড়ি।’ জীবন গতিতে তখন তার আসে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার নামে মৃত্যু সড়কের লাল বাতি। রূপা সেখান থেকে উৎড়ে এসেছিলেন তবে আমাদের সমাজে ধারাবাহিক শাসন অপারগতার আঁচারের কারণে, রূপা হলেন নির্ম্মমতার এক নিষ্ঠুর বলি। ঘাড় মঠ্কে, ধর্ষিতা হয়ে তাকে এক নিরুপায়ে  মরতে হলো। তার জন্য আইন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কেও হৃদয়ের এক বিন্দু অনুকম্পা দেখায় নাই। রূপা দেখেছেন, শুধু নিয়ম-নীতি আর সক্ষমতা নয়, সামাজিক অসভ্যতার কারণে বিস্তর প্রকৃতির নি:শব্দ এক আবদ্ধ জায়গায় তার নিষ্ঠুর নিরুপায়তা। জানোয়ারের বিষাক্ত নোখঁড় তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিস্তব্ধ করে দিচ্ছে। অবশেষে মৌলিকতার এতটুকু প্রাপ্তির কাছে ঘিরে ধরল যন্ত্রণার মৃত্যু পরিধি। এক রূপা গেল। এমনও হাজারো রূপার কি একই পরিণতি হচ্ছেনা ! না হচ্ছে। তবে, তাদের দায়িত্ব নেবে কে ? বেঁচে থাকার জন্য নারীকে কেন বার বার জাগ্রত হতে হুঙ্কার দিতে হবে। পুরুষ তুমি শুধরাও না কেন। রূপার মৃত্যু কিংবা তালাক বাতিল চেয়ে নুসরাতদেরকে বাঁচতে হবে ! বাল্য বিয়ে কেন হাজার হাজার মেয়েকে জীবনে অনিদ্ধারিত পথ সৃষ্টি করে দেবে। আসুন পুরুষেরা আমরা আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তার কথা একটু ভাবি। 

আমাদের দেশে নারী ও শিশু কন্যা নির্যাতনের ধরণ এবং সংখ্যা দুটোই বেশি। লিগাল এইড’ এর পত্রিকা ‘মহিলা সমাচার’ জানাচ্ছে, তাদের মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪ টি জাতীয় পত্রিকা থেকে সংগৃহীত জানুয়ারী হতে মার্চ-২০১৭ মাসের তথ্যের এক বিবরণি হতে স্পষ্টত: প্রতীয়মাণ দেশে নারী ও কন্যা শিশুরা নিরাপদে নেই। আর এই আশংঙ্কাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেয় রূপার অকাল প্রয়াণ। তথ্য বলছে, এই তিন মাসে দেশে, ধর্ষণ হয়েছে ১৯১জন, গণ-ধর্ষণ, ৪১ জন, ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার  ১১ জন, এসিডে আক্রান্ত  ৭ জন, এই জন্য মৃত্যু  ১ জন। অপহরণ ২১ জন, পতিতালয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে ৫ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতন ৬২ জন। এ কারণে হত্যা ২৮ জন। গৃহ পরিচারিকা নির্যাতন ২ জন।  গৃহ পরিচারিকা হত্যা   ৫ জন। আত্মহত্যা ১০০ জন। উত্যক্তের জন্য আত্মহত্যা ৫ জন। বাল্য বিবাহ ২৭ জন। এখানে তালাকের কোন হিসেব উপাস্থপন করা হয় নাই। তবে আমাদের দেশে তালাকের শিকার মেয়েদের চেয়ে ছেলেরাও ইচ্ছে পোষণে পিছিয়ে নেই। 

আইনি তালাক, এখানে রয়েছে সময় ক্ষেপন, ভুয়ো ম্যারেজ রেজিষ্টারের কাছে তালাকের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ইচ্ছে করে প্রতারণার মত বিড়ম্বনার আরো কিছু ঘটনা। গ্রামে কাজী এমন কিছু বিয়ে পড়ায়, তালাকের সময় সে বিয়ে ভুয়ো হয় কেন ? গেল ৮ মার্চ-২০১৭ বিশ্ব নারী দিবসে বিভিন্ন ফোরামে এই দিবস পালন করতে গিয়ে বক্তারা একটি বিষয়ে নারীদের উন্নয়নে একসাথে কন্ঠ মিলিয়েছেন। তা হলো, অর্থনীতিতে পুরুষের সাথে নারীদের অধিকার ফিপ্টি(৫০) : ফিপ্টি(৫০) এক বিশ্ব গড়ার বিপ্লবী অঙ্গিকার। যেন নারীদের জন্য এই অর্থনৈতিক ভাবনা থেকে  সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি আপনি আপনি এগিয়ে যেতে পারে। এতে অন্তত: বৈষম্য কমবে। নির্যাতন কমবে। আমাদের নারী ও কন্যা শিশুরা অন্যায়ের আইনি প্রতিকার পেতে একটু হলেও নিস্কৃতি পাবে। তবে আইনি প্রতিকার প্রার্থনা, এখনও আমাদের সমাজে এই সন্মানের মানদন্ডকে বিড়ম্বনার বিষয় হিসেবে ভাবা হয়। সত্য কথা হলো, আমাদের দেশ এবং সমাজে নারী মুক্তির বিষয়টি  অনিবার্যভাবে আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রসঙ্গের সাথে জড়িত। দেশে নারীরা মনে করেন, পুরুষেরা কি প্রতিক্রয়িাশীল! সে জন্য তারা (নারীরা) সমাজে পরাধীন। এমনই ভাবে তারা রাজনৈতিকভাবেও পরাধীন। সে ভাবনায় তসলিমা নাসরীনের কথায়, আমাদের নারীরা আসলে ভাসমান। সত্যিই কি নারী ভাসমান ? নিশ্চয় নারী ভাসমান নয় ! আমার প্রশ্নটা কিন্তু এখানেই।


Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Clickadu
```
```
```

Top Side