আপনার নিউজ:- বিশ্ববিদ্যালয়ের হল হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য একধরনের আশীর্বাদ। হলে থাকতে পারা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সৌভাগ্যের বিষয়। পড়ালেখার জন্য হল একটা দারুণ জায়গা। থাকা–খাওয়ার একটা কম খরচে বন্দোবস্ত হয় হলে। হল হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সূতিকাগার। হল হচ্ছে এক অন্য ধরনের বিদ্যাপিঠ। হলে শিক্ষার্থীদের আচার–আচরণের একটা প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন এলাকার, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে থাকার ফলে বৈচিত্র্যময় জীবনের অভিজ্ঞতা হয়।
এই হল না পাওয়া অনেকের জন্য একটা কষ্টের বা দুঃখের কারণ যেমন হয় তেমনি হল পাওয়াও অনেকের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে। হলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে এক বিরক্তিকর ও জঘন্যতম সমস্যার নাম হচ্ছে র্যাগিং।
সমস্যা? হয়তো এটা একপর্যায়ের সামাজিক সমস্যা, নাকি মানসিক রোগ? দিনের পর দিন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল ক্যাম্পাসে ঘটে আসছে এই ধরনের জঘন্যতম ঘটনা। একটা ছাত্র তার ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার উদ্দেশ্যে যেখানে বিশ্বাসের সাথে প্রবেশ করছে সেখানেই তার জীবন বিপন্ন। স্বপ্নদীপ, যার দামের সাথে স্বপ্ন এবং প্রদীপ উল্লেখিত সেই স্বপ্নগুলো আজ অঝোরে ঝরে গেছে।
সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বর্ষের ছাত্রীর উপর যে পরিমাণ অত্যাচার হয়, মধ্যযুগের বর্বরতা কেউ হার মানায়। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেল ক্যাম্পাসে প্রাক্তনীদের অবাধ প্রবেশ এবং দীর্ঘস্থায়ী আবাসনিক ব্যবস্থা। অনেক প্রাক্তনী রয়েছেন যারা কর্মসূত্রে আবদ্ধ হলেও রাত্রি যাপন এই হোস্টেলে করেন। স্বপ্নদীপ কুন্ডুর মৃত্যুরহস্যের তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। সেই সঙ্গে রহস্য আরও বেশি করে ঘনীভূত হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বপ্নদীপের বাবা রামপ্রসাদ কুন্ডু। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সৌরভ চৌধুরী নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তনীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। কিন্তু স্বপ্নদীপের মৃত্যুর পর দু’দিন কেটে গেলেও এখনও সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বরং সময় যত এগোচ্ছে, তত নতুন নতুন প্রশ্ন উঠে আসছে।


