বাংলাদেশমোঃ রবিউল ইসলাম আকন্দ:-আজ শনিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিকরা মানববন্ধন করছে।১৪ জুন রাত ১০ টার সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ৭১ টিভির জামালপুর জেলার বক্সিগঞ্জ প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী নাদিম গুরুত্ব আহত অবস্হায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে পরের দিন ১৫ তারিখ দুপুরে চিকিৎসা ধীন অবস্হায় মৃত্যু বরণ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় সারাদেশের সাংবাদিক মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া।তারি ধারা বাহিকতায় সারা দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলাতে সাংবাদিকরা হত্যাকাণ্ডে জরিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন।এসময় বক্তারা বিভিন্ন দাবি তোলেন তার মধ্যে অন্যতম দাবি হচ্ছে নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের হত্যার বিচার,ইতি পূর্বে বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন হলে ও তার কোন বিচার হয় নি এর জন্য অপরাধীরা বেশি বেপরোয়া হয়েছে।সাংবাদিকদের কর্ম পরিবেশ সু নিশ্চিতের দাবি ও জানান তারা।তারা বলেন যদি ইতি পূর্বে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার হতো তাহলে আজ গোলাম রব্বানী নাদিমকে জীবন দিতে হতো না।
প্রসঙ্গত উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ আলম বাবুর নির্দেশে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক নাদিম উপর হামলার সময় চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু অন্ধকারে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে ফুটেজ থেকে জানা গেছে। ওই চেয়ারম্যানের অপকর্ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নিহত সাংবাদিকের স্বজনদের।
পৌরসভার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে পেশাগত কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন গোলাম রব্বানী নাদিম। এ সময় তার চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে কয়েকজন সন্ত্রাসী দৌড়ে গিয়ে তার উপর হামলা চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু দিন আগে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবুকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। স্ত্রীর মর্যাদার পেতে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এতে নাদিমের উপর ক্ষুব্ধ হন চেয়ারম্যান বাবু।
ওই সংবাদ প্রকাশের ঘটনার জেরেই গোলাম রব্বানী নাদিমসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন চেয়ারম্যান। মামলাটি গত বুধবার (১৪জুন) ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দেন। রাতে সাংবাদিক নাদিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নাদিমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাতের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। রিফাত এর অভিযোগ, চেয়ারম্যানের ছেলেসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তার বাবা সাংবাদিক নাদিমের উপর হামলা করে হত্যা করেছে
মাহমুদুল আলম বাবু বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে । এ ঘটনার পর থেকেই চেয়ারম্যান বাবু পলাতক রয়েছে।


